শামীম হোসেন দিঘলিয়াা
খুলনার দিঘলিয়ায় মারামারির মামলার আসামি ফিরোজ আলম শাওন দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করেও অন্য এক ব্যক্তিকে ‘শাওন’ সাজিয়ে আদালতে হাজির করে জামিন নিয়েছেন—এমন অভিযোগে আসামি শাওন ও তার আইনজীবী সরদার শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় শাওনের ভাই ফেরদৌস আলম সেতুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তারের পর রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তার গ্রেপ্তারের পরই কথিত জামিন জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর আগে গত ৬ আগস্ট এ ঘটনায় খুলনা সদর থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়।
মামলার এজাহার, পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ রাতে দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি বরইতলা ঘাট এলাকায় প্রতিবেশী তরিকুল আমিনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ফিরোজ আলম শাওন ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তরিকুল আমিন বাদী হয়ে শাওনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।
আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য দিঘলিয়া থানাকে নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দিঘলিয়া থানার এসআই জামিল হোসেন গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর শুধু ফিরোজ আলম শাওনকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। বর্তমানে খুলনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
তরিকুল আমিনের আইনজীবী আজমল হোসেন জানান, আদালত চার্জ গঠনের দিন ধার্য করার পর তারা জানতে পারেন, চলতি বছরের ১৬ মার্চ আসামি শাওন জামিন নিয়েছেন। তখন বাদী জানান, শাওন দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছেন এবং এর মধ্যে তিনি দেশে আসেননি। বিষয়টি আদালতকে জানানো হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক ফাতেমা জান্নাত বিষয়টি তদন্ত করেন।
গত ২২ জুলাই খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে বিচারক ফাতেমা জান্নাত উল্লেখ করেন, সিআর ৬৩/২০২৫ (দিঘলিয়া) মামলার আসামি ফিরোজ আলম শাওন গত ১৬ মার্চ আইনজীবী সরদার শাহজাহান আলীর ওকালতনামার মাধ্যমে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। অপরাধ জামিনযোগ্য হওয়ায় আদালত তাকে ১০০ টাকা বন্ডে জামিন দেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ এপ্রিল বাদী তরিকুল আমিন আবেদন করে জানান, আসামি বিদেশে অবস্থান করেও অন্য একজনকে আসামি সাজিয়ে জামিন নিয়েছেন। পরদিন ২৭ এপ্রিল আসামির আইনজীবী সরদার শাহজাহান আলী ভিন্ন ব্যক্তিকে আসামি সাজিয়ে জামিন নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তার ওকালতনামা প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
বিচারকের প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামি ফিরোজ আলম শাওন দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানকালে অন্য ব্যক্তিকে হাজির করে জামিন নিয়েছেন বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারণার সঙ্গে আসামি, আইনজীবী এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এরপর গত ২ আগস্ট আদালত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পর গত ৬ আগস্ট ফিরোজ আলম শাওনকে প্রধান আসামি এবং আইনজীবী সরদার শাহজাহান আলীকে দ্বিতীয় আসামি করে খুলনা সদর থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই মেহেদী হাসান খান জানান, মামলার প্রধান আসামি ফিরোজ আলম শাওন দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাস করেন। গত বছর দেশে এসে মারামারির ঘটনায় জড়ানোর পর আবার দক্ষিণ কোরিয়ায় চলে যান। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে অন্য ব্যক্তিকে হাজির করে জামিন নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় শাওনের ভাই ফেরদৌস আলম সেতুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আইন উপদেষ্টাঃ অ্যাডভোকেট জাকিয়া মিম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মামুন হাচান। মফস্বল সম্পাদক: শেখ মাহাবুব আলম। প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান। অস্থায়ী অফিস: মুজগুন্নি খালিশপুর খুলনা। যোগাযোগ: 01728-060690, ইমেইল: naragatirsangbad@gmail.com ( গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে বস্তু নিষ্ঠ তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করতে আমরা বদ্ধ পরিকর )।
Copyright © 2026 নড়াগাতীর সংবাদ. All rights reserved.