নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনা — দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কারিগরি শিক্ষা ও উদ্যোক্তা গড়নের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) সম্প্রতি প্রশিক্ষণ মান ও অবকাঠামোর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। পুরোনো যন্ত্রপাতি সংস্কার, নতুন মেশিন সংযোজন, প্রশিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্রের অবকাঠামো আধুনিকায়নসহ নানা কর্মসূচি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে প্রশিক্ষণের মান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিটাক খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের যুব সমাজকে দক্ষ ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলছে।
প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র প্রশিক্ষণেই সীমাবদ্ধ নয়; স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ, যন্ত্রপাতি মেরামত ও গবেষণায় সহায়তা প্রদান করে আসছে। এর ফলে অনেক উদ্যোক্তা তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণ ও পণ্যের মান উন্নয়নে সক্ষম হয়েছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিটাক খুলনাকে নিয়ে কিছু মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা ছড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিটাক খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক প্রকৌশলী মোর্শেদ আলম বলেন, “যে প্রচারণা ও তথ্যসমূহ ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিটাক খুলনা সরকারের নিয়মের অধীনে স্বচ্ছভাবে কাজ করছে। আমরা কঠোর নিয়মানুসারে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে থাকি। প্রশিক্ষণ শেষে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় একেকজন ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পান, যা তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মনির্ভর হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করে। কোনো অনিয়ম বা অন্যায় কর্মকাণ্ডে এখানে কারও সম্পৃক্ততা নেই। এসব প্রচারণা আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। আমরা চাই সবাই বিভ্রান্ত না হয়ে বিটাকের বাস্তব উন্নয়ন ও অগ্রগতি দেখুক।”
বিটাক খুলনায় কর্মরত শারমিন সুলতানা মিতা বলেন, তার দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে তাকে প্রকৃত কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়নি; বরং তাকে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি পরিচালক বরাবর লিখিতভাবে জানিয়েছেন এবং আশা করেন কর্তৃপক্ষ তার দরখাস্ত বিবেচনা করে তাকে তার দক্ষতার সঙ্গে সম্পৃক্ত কাজের সুযোগ প্রদান করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে তিনি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তবে বিশ্বাস রাখেন যে ভবিষ্যতে তার আবেদন অনুযায়ী যথাযথ কাজ করার সুযোগ পাবেন।
বিটাক খুলনা দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা সহায়তা ও আধুনিক প্রযুক্তি বিস্তারে কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, প্রতিটি কার্যক্রম কঠোর সরকারি নীতিমালা ও নিরীক্ষার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। “আমাদের লক্ষ্য তরুণদের হাতে দক্ষতা তুলে দেওয়া। এখানে স্বচ্ছতা কঠোরভাবে রক্ষা করা হয়। কিন্তু কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে।”
বর্তমানে বিটাক খুলনায় বিভিন্ন ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা তরুণ সমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। অনেক প্রশিক্ষণার্থী ইতিমধ্যেই স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন, কেউ কেউ নিজের উদ্যোগে সফল ব্যবসা শুরু করেছেন।
বিটাক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা সরকারের দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছি। দক্ষিণাঞ্চলের তরুণরা যাতে ঘরে বসে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যেই প্রতিটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রচারণা ও গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে তদন্ত করুক, সত্য উদঘাটন হোক এবং যারা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সবাইকে গুজব ও অপপ্রচার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিটাক খুলনার সাফল্যের গল্প আসলে দেশের শিল্প বিকাশের গল্পেরই অংশ। এই প্রতিষ্ঠান তরুণ প্রজন্মকে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিতে কাজ করছে—এটাই সত্য।”
আইন উপদেষ্টাঃ অ্যাডভোকেট জাকিয়া মিম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মামুন হাচান। মফস্বল সম্পাদক: শেখ মাহাবুব আলম। প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান। অস্থায়ী অফিস: মুজগুন্নি খালিশপুর খুলনা। যোগাযোগ: 01728-060690, ইমেইল: naragatirsangbad@gmail.com ( গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে বস্তু নিষ্ঠ তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করতে আমরা বদ্ধ পরিকর )।
Copyright © 2026 নড়াগাতীর সংবাদ. All rights reserved.