নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা গাজীর মোড় এলাকায় এক গৃহবধূকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মো. সোহেল আহমেদ (৫৫) নামে এক স্কুলশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিজ বাড়ির এক ভাড়াটিয়া গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন মো. সোহেল আহমেদ। এ সময় ওই গৃহবধূ জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহেল আহমেদকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। দৌলতপুর থানায় মামলাটি ১৫ নম্বর হিসেবে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোহেল আহমেদ খুলনা মহানগরীর গোবরচাকা এলাকার ন্যাশনাল গার্লস হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক (ক্রীড়া) হিসেবে কর্মরত। একজন পুরুষ শিক্ষক কীভাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, সেটিও যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন কয়েকজন সচেতন নাগরিক।
শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ
এদিকে সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ, অনৈতিক আচরণ এবং বিভিন্ন অনিয়মে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষিকা বিভিন্ন সময়ে সোহেল আহমেদের আচরণ নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিতোষ কুমার মণ্ডলকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছিলেন। তবে অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাদের দাবি। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সোহেল আহমেদের ঘনিষ্ঠতার কারণেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বিদ্যালয়ের বই বিক্রি, ভর্তি কার্যক্রম ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে সোহেল আহমেদ ও প্রধান শিক্ষক পরিতোষ কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যসংবলিত একটি ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিভাবকদের কয়েকজন জানিয়েছেন, তারা সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে খুলনা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগে বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে কেন্দ্র করে অতীতেও সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে গুরুতর আচরণের অভিযোগ ওঠার বিষয়টি উল্লেখ করা হবে বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, তৎকালীন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তারা মনে করেন।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তাদের ভাষ্য, “আমাদের মেয়েরা স্কুলে নিরাপদ থাকবে—এটাই আমাদের প্রধান প্রত্যাশা। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অভিভাবকদের মতে, কোনো অভিযোগ উপেক্ষা করা হলে তা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা তদন্তের দাবি
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে প্রধান শিক্ষক পরিতোষ কুমার মণ্ডলকে সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রধান শিক্ষক অভিযোগগুলো সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন কি না এবং জেনে থাকলে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য প্রধান শিক্ষক পরিতোষ কুমার মণ্ডল সাংবাদিকদের অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকরা ওই অর্থ গ্রহণ করেননি। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। বিষয়টি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে সচেতন মহল মনে করছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য
এ বিষয়ে খুলনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।” তিনি আরও জানান, সোহেল আহমেদ যেদিন থেকে জেলহাজতে রয়েছেন, বিধি অনুযায়ী ওই সময় থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
পরিবারের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন
সোহেল আহমেদের মায়ের বক্তব্যের একটি গোপনে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সেখানে তিনি ছেলের আচরণ নিয়ে পরিবারের বিব্রতকর পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে ভিডিওটির বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের দাবি, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে লাঞ্ছিত করার মামলা এবং একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ ওঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক পরিতোষ কুমার মণ্ডলের ভূমিকা, বিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং সাংবাদিককে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিভাবকদের প্রশ্ন—যে প্রতিষ্ঠানে কিশোরী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন শিক্ষা ও নৈতিকতা অর্জনের জন্য আসে, সেখানে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে কর্তৃপক্ষ নীরব থাকবে, নাকি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নিশ্চিত করবে?
আইন উপদেষ্টাঃ অ্যাডভোকেট জাকিয়া মিম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মামুন হাচান। মফস্বল সম্পাদক: শেখ মাহাবুব আলম। প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান। অস্থায়ী অফিস: মুজগুন্নি খালিশপুর খুলনা। যোগাযোগ: 01728-060690, ইমেইল: naragatirsangbad@gmail.com ( গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে বস্তু নিষ্ঠ তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করতে আমরা বদ্ধ পরিকর )।
Copyright © 2026 নড়াগাতীর সংবাদ. All rights reserved.