গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা ডিম তেঁতো স্বাদের হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (১৪ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তেঁতো স্বাদের ডিমের নমুনা নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ জানান। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন গলাচিপা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজনু মোল্লা।
রতনদী তালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে রুমান বলেন, “আজ প্রথম শিফটে বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের ডিম বিতরণ করার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থী ডিম খেতে না পেরে আমার কাছে নিয়ে আসে। তারা জানায়, ডিমের স্বাদ তেঁতো। আমিও পরীক্ষা করে একই স্বাদ পাই। পরে পাশের কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি, সেখানেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য একটি ডিমের নমুনা নিয়ে এসেছি।”
গোলখালী ইউনিয়নের সুহরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিনাস চন্দ্র হাওলাদার বলেন, “শুধু ডিম নয়, সরবরাহকৃত রুটির মান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। রুটি এতটাই নিম্নমানের যে শিশুরা খেতে চায় না। অনেক সময় অল্প খেয়ে ফেলে দেয়। খাবারের মান ও পরিমাণ দুটিই প্রত্যাশিত নয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ফিডিংয়ের খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হচ্ছে।”
অপরদিকে, এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্মিথ জেরিন সাগর জানান, শনিবার সরবরাহ করা রুটিরও কোনো স্বাদ ছিল না। শিক্ষার্থীরা খাবারটি খেতে অনীহা প্রকাশ করেছে।
গলাচিপা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজনু মোল্লা বলেন, “গত সপ্তাহেও উপজেলার দক্ষিণ চর বিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে খাবার সরবরাহ করা হয়েছিল, যা নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়। আজ একাধিক বিদ্যালয় থেকে ডিমের তেঁতো স্বাদের অভিযোগ এসেছে। শিক্ষকরা নমুনা নিয়ে এসেছেন। আমরা বিষয়টি যাচাই করছি এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।”
তিনি আরও বলেন, “সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার পটুয়াখালী জেলা ব্যবস্থাপক মুঠোফোনে বলেন, “অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। আগামীকাল সোমবার সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আইন উপদেষ্টাঃ অ্যাডভোকেট জাকিয়া মিম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মামুন হাচান। মফস্বল সম্পাদক: শেখ মাহাবুব আলম। প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান। অস্থায়ী অফিস: মুজগুন্নি খালিশপুর খুলনা। যোগাযোগ: 01728-060690, ইমেইল: naragatirsangbad@gmail.com ( গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে বস্তু নিষ্ঠ তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করতে আমরা বদ্ধ পরিকর )।
Copyright © 2026 নড়াগাতীর সংবাদ. All rights reserved.