নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, এ চুক্তির উদ্দেশ্য দেশ বিক্রি নয়; বরং বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিচালনব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানো।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত দুর্গাপূজা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তিকে কেন্দ্র করে দেশ বিক্রির যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দরের বৃহত্তম টার্মিনাল এনসিটি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
বিদেশি বিনিয়োগ ও বন্দরের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যয় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বন্দরের আধুনিকায়ন, পণ্য খালাসে সময় কমানো এবং পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন চুক্তির কারণে বন্দরে বর্তমানে কর্মরত কোনো শ্রমিক চাকরি হারাবেন না বলে সরকার আশ্বস্ত করেছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, টার্মিনালের কার্যক্রম আরও দক্ষ ও গতিশীল হলে শ্রমিকেরাও উপকৃত হবেন এবং তাঁদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে চীন দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। ভিয়েতনামও বিভিন্ন সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির মুক্তবাণিজ্য চুক্তিসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সুবিধা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে বাংলাদেশ অতীতেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, রপ্তানি ব্যয় কমানো ও বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সিলেটের ৩০০ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে প্রকল্প
অনুষ্ঠানে সিলেট নগরীর সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৩০০ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য একটি বড় প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে যে পরিমাণ উন্নয়নকাজ হয়েছে, অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে তার দ্বিগুণ সময় লাগবে না। পরিকল্পিত প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে বাকি সড়ক উন্নয়নকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এ সময় বাংলাদেশের অভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
৮৫টি পূজামণ্ডপে ৩৪ লাখ টাকা সহায়তা
দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিলেট নগরীর ৮৫টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পূজামণ্ডপকে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৩৪ লাখ টাকা প্রদান করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, নগরবাসীর কল্যাণে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের পরিবেশ তৈরি করাও সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে উদ্যাপনের জন্য সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজায়ী রাফিন সরকার। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারওয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের প্রধান স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু এবং বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা।
বক্তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আইন উপদেষ্টাঃ অ্যাডভোকেট জাকিয়া মিম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মামুন হাচান। মফস্বল সম্পাদক: শেখ মাহাবুব আলম। প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান। অস্থায়ী অফিস: মুজগুন্নি খালিশপুর খুলনা। যোগাযোগ: 01728-060690, ইমেইল: naragatirsangbad@gmail.com ( গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে বস্তু নিষ্ঠ তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করতে আমরা বদ্ধ পরিকর )।
Copyright © 2026 নড়াগাতীর সংবাদ. All rights reserved.