শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):
খুলনার ডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার খাল-বিল ও জলাশয়ে দ্রুত হারে কমে যাচ্ছে পরিবেশবান্ধব জলজ প্রাণী শামুক। নির্বিচারে আহরণ, অতিমাত্রায় কীটনাশকের ব্যবহার ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই প্রাণী বিলুপ্তির পথে।
এক সময় জলাশয়ে প্রচুর শামুক দেখা গেলেও এখন তা খুবই দুর্লভ। বিশেষজ্ঞদের মতে, শামুক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও তাদের ডিম খেয়ে জলজ পরিবেশকে সুস্থ রাখে, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং ফসল উৎপাদনে সহায়তা করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৎস্যচাষিরা মাছের খাবার হিসেবে শামুক ব্যবহার করছেন। এ কারণে শামুক সংগ্রহ করে অনেকেই ব্যবসা করছেন। ডুমুরিয়ার কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, “আমরা ৩০ টাকা কেজি দরে শামুক কিনে মাছ খাওয়াতাম। কিন্তু এখন বুঝেছি এতে জীবাণু মাছের শরীরে যেতে পারে।” অপর এক চাষি মনোজ্ঞ কুমার জানান, “মৎস্য অফিস থেকে প্রশিক্ষণ পেয়ে আমরা শামুক ব্যবহার বন্ধ করেছি।”
তবে অনেক পরিবার এখনও জীবিকা নির্বাহের জন্য শামুক সংগ্রহ করছে। নুমিতা নামের এক নারী জানান, “বর্ষায় প্রতিদিন বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করে বিক্রি করলে ৪০০–৫০০ টাকা আয় হয়।” একইভাবে এক দিনমজুর বলেন, “শামুক বিক্রি করে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকা উপার্জন করি।”
ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, “শামুক মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার না করতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করছি। কারণ এতে মাছের শরীরে রোগ জীবাণু ছড়ায়, পানির মান নষ্ট হয় এবং রপ্তানিতেও সমস্যা হয়। শামুক আসলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। তবে শামুক বন আইনের অধীনে থাকায় আমরা মূলত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাই।”
বিশেষজ্ঞদের মত, শামুক সংরক্ষণে প্রশাসনিক নজরদারি ও জনগণের সচেতনতা জরুরি, নইলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী এই উপকারী প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
আইন উপদেষ্টাঃ অ্যাডভোকেট জাকিয়া মিম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মামুন হাচান। মফস্বল সম্পাদক: শেখ মাহাবুব আলম। প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান। অস্থায়ী অফিস: মুজগুন্নি খালিশপুর খুলনা। যোগাযোগ: 01728-060690, ইমেইল: naragatirsangbad@gmail.com ( গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে বস্তু নিষ্ঠ তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করতে আমরা বদ্ধ পরিকর )।
Copyright © 2026 নড়াগাতীর সংবাদ. All rights reserved.