ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বিদেশে পাঠানোর নামে মানবপাচারের শিকার হয়ে কম্বোডিয়ায় নির্মম পরিণতির মুখে পড়েছেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের বাহির রয়েরা গ্রামের যুবক সোহাগ মোল্লা। দালালের মিথ্যা আশ্বাসে পরিবারের শেষ সম্বল খুইয়ে বিদেশে গিয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারান তিনি।
নিহত সোহাগ বাহির রয়েরা গ্রামের বিল্লাল মোল্লার বড় ছেলে। পরিবারকে সচ্ছল করার আশায় সাত থেকে আট মাস আগে একই গ্রামের মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য রয়েল শেখের মাধ্যমে কম্বোডিয়া পাড়ি জমান তিনি। মাসে দেড় লাখ টাকা বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরই ভেঙে পড়ে সেই স্বপ্ন। কোনো বৈধ কাজ বা কাগজপত্র না দিয়ে সোহাগসহ কয়েকজন যুবককে অবৈধ কাজে বাধ্য করা হয়। কাজ না পেয়ে, দেশে ফেরার কথা বললেই শুরু হতো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নিয়মিত খাবার, বেতন ও চিকিৎসাসেবাও মিলত না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মানবপাচারকারী রয়েল শেখ—শৈলকুপার ক্ষুদ্র রয়েরা গ্রামের জামিরুল শেখের ছেলে—দুই বছর আগে নিজে কম্বোডিয়ায় যায়। এরপর থেকে এলাকার দরিদ্র ও বেকার যুবকদের মোটা অঙ্কের বেতনের লোভ দেখিয়ে একের পর এক সেখানে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সেখানে গিয়ে তারা কার্যত বন্দি জীবন যাপন করতে বাধ্য হন।
গত মাসে সোহাগের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে গেলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ জানুয়ারি কম্বোডিয়ায় তার মৃত্যু হয়। তবে এখন পর্যন্ত তার মরদেহ দেশে আনার কোনো উদ্যোগ নেয়নি অভিযুক্ত মানবপাচারকারী রয়েল শেখ।
ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন সোহাগের অসহায় বাবা-মা। সন্তানের মরদেহ অন্তত একবার দেখার আকুতি নিয়ে তারা দালালদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু অনিশ্চয়তা আর অসহায়ত্ব ছাড়া কিছুই জুটছে না। এলাকাবাসীর ভাষায়, “স্বপ্ন দেখিয়ে ছেলেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এখন লাশটাও ফেরত দিচ্ছে না।”
সোহাগের সঙ্গে একই ফ্লাইটে কম্বোডিয়া গিয়েছিলেন তার চাচাত ভাই ইব্রাহিম। গত পরশু তিনি দেশে ফিরে পুরো ঘটনার বিবরণ পরিবার ও স্থানীয়দের কাছে তুলে ধরেন। ইব্রাহিমও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। তার বক্তব্যের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রয়েল শেখের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় যাওয়া অন্তত ৮–১০ জন যুবক সবকিছু হারিয়ে কোনোমতে দেশে ফিরেছেন। অনেক পরিবার এখন সর্বশান্ত। কেউ ঋণের বোঝায় জর্জরিত, কেউ আবার নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও মানবাধিকারকর্মীরা প্রবাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবপাচারকারী দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে একের পর এক সোহাগ হারিয়ে যাবে—স্বপ্নের নামে, লোভের ফাঁদে।
আইন উপদেষ্টাঃ অ্যাডভোকেট জাকিয়া মিম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মামুন হাচান। মফস্বল সম্পাদক: শেখ মাহাবুব আলম। প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান। অস্থায়ী অফিস: মুজগুন্নি খালিশপুর খুলনা। যোগাযোগ: 01728-060690, ইমেইল: naragatirsangbad@gmail.com ( গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে বস্তু নিষ্ঠ তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করতে আমরা বদ্ধ পরিকর )।
Copyright © 2026 নড়াগাতীর সংবাদ. All rights reserved.