আশরাফুজ্জামান, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করার পর এক সমবায় ব্যবস্থাপককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ওই কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে পলাশবাড়ী পৌরশহরে নিজের বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন পেপুলীজোড় কৃষক সমবায় সমিতি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. সেলিম মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিম মিয়া জানান, মো. আ. মান্নান ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই পলাশবাড়ী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর অভিযোগ, যোগদানের পর থেকে ওই কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, পলাশবাড়ী উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি (ইউসিসিএ লি.)-এর জনতা ব্যাংক পিএলসি, পলাশবাড়ী শাখার হিসাব নম্বর ০১২১০৮১৮৫১ এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসি, পলাশবাড়ী শাখার হিসাব নম্বর ০০১০০৫৭৩৬ থেকে সদস্যদের শেয়ার, সঞ্চয় ও স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) লভ্যাংশের টাকা বিভিন্ন ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। গত দুই বছর এক মাসে এ দুই হিসাব থেকে প্রায় ছয় লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া উপজেলার অধীন পরিচালিত গাইবান্ধা সমন্বিত পল্লী দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচি, উদকনিক কর্মসূচি ও সদাবিক কর্মসূচির এফডিআরের লভ্যাংশ থেকেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আরও চার লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন সেলিম মিয়া। তাঁর দাবি, বিভিন্ন খাত মিলিয়ে আত্মসাতের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা।
সেলিম মিয়া আরও অভিযোগ করেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা একটি ঘটনার দায় তাঁর ওপর চাপিয়ে পলাশবাড়ী থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁকে কারাগারে যেতে হয় বলে দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে মামলাটিকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে সেলিম মিয়া মামলা নম্বর জিআর ২৪১/২৬ এবং তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ করেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন সেলিম মিয়া ও তাঁর সমর্থকেরা।
আইন উপদেষ্টাঃ অ্যাডভোকেট জাকিয়া মিম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মামুন হাচান। মফস্বল সম্পাদক: শেখ মাহাবুব আলম। প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান। অস্থায়ী অফিস: মুজগুন্নি খালিশপুর খুলনা। যোগাযোগ: 01728-060690, ইমেইল: naragatirsangbad@gmail.com ( গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে বস্তু নিষ্ঠ তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করতে আমরা বদ্ধ পরিকর )।
Copyright © 2026 নড়াগাতীর সংবাদ. All rights reserved.