নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইলের কালিয়া থানার ওসি (তদন্ত) পুলিশ পরিদর্শক মোঃ হাসানুল কবিরের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী মোছা সাদিয়া কানিজ ছিদ্দিকা বৃষ্টি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি রবিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল নড়াইল জেলার আমলী আদালতে দায়ের করা হয়। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মারুফ হাসান মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), যশোরকে দায়িত্ব দেন। মামলা নং এমপি ১০১/২৫ (কালিয়া)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালের ৬ এপ্রিল সামাজিকভাবে অনুষ্ঠিত বিবাহে বাদী সাদিয়া কানিজ ছিদ্দিকা বৃষ্টি ও মোঃ হাসানুল কবির বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের সময় আসামীর চাহিদা অনুযায়ী বাদীর পিতা পাঁচ বিঘা জমি বিক্রি করে নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপহার যৌতুক হিসেবে প্রদান করেন। তাদের সংসারে দুই কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে ফারহাত তাবাচ্ছুম হিয়া (১৪) ও শবনম তাবাচ্ছুম নিহা (৭)।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তাদের দাম্পত্য জীবন সুখে-সাচ্ছন্দ্যে চলছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মোঃ হাসানুল কবির র্যাবে বদলি হওয়ার পর স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি মনোযোগ কমাতে থাকেন এবং বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। পাশাপাশি র্যাবে কর্মরত থাকাকালে তিনি জেসমিন ইসলাম জেমী নামের এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এই বিষয়ে প্রতিবাদ করায় বাদীকে নিয়মিত নির্যাতন করা হয়।
প্রায় ছয় মাস আগে প্রাইভেটকার কেনার অজুহাতে মোঃ হাসানুল কবির ২৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে অস্বীকার করলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। বাদী অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন সময় তার মোবাইল ফোনে কল করার চেষ্টা করলেও আসামি ফোন রিসিভ করেননি।
কালিয়া থানায় বদলি হওয়ার পরও বাদী সন্তানদের সঙ্গে থাকার জন্য চেষ্টা করেন। তবে আসামি জানান, যৌতুকের ২৫ লাখ টাকা না দিলে সংসার চালানো সম্ভব নয়। পরিস্থিতি এ পর্যায়ে এসে বাদী আদালতের শরণাপন্ন হন।
মামলায় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বাদীর পিতা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, মণ্ডল শরিফুল ইসলাম সাজু, কন্যা ফারহাত তাবাচ্ছুম হিয়া এবং কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক মেডিকেল কর্মকর্তা সহ আরও কয়েকজন।
অভিযোগের বিষয়ে কালিয়া থানার ওসি মোঃ হাসানুল কবির মুঠোফোনে বলেন, “বাদী আমার নিকট থেকে কৌশলে প্রায় কোটি টাকার সম্পত্তি লিখে নিয়েছে। পরকিয়ার অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তদন্ত হলে আমি জবাব দিতে প্রস্তুত।” মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের হাতে চলে যাওয়ায় এখন আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আইন উপদেষ্টাঃ অ্যাডভোকেট জাকিয়া মিম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মামুন হাচান। মফস্বল সম্পাদক: শেখ মাহাবুব আলম। প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান। অস্থায়ী অফিস: মুজগুন্নি খালিশপুর খুলনা। যোগাযোগ: 01728-060690, ইমেইল: naragatirsangbad@gmail.com ( গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে বস্তু নিষ্ঠ তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করতে আমরা বদ্ধ পরিকর )।
Copyright © 2026 নড়াগাতীর সংবাদ. All rights reserved.