
উন্মে উমামা রাত্রি স্টাফ রিপোর্টার
লাঠি খেলা এক সময় বাঙালির সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল। এটি কেবল বিনোদন নয়, বরং আত্মরক্ষা ও প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী কৌশলও ছিল। বাংলার গ্রামাঞ্চলে লাঠিয়ালদের প্রতিপত্তি ছিল প্রবল, তারা জমিদার কিংবা সাধারণ জনগণের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।
আগে গ্রামগঞ্জে লাঠি খেলার দল গড়ে উঠত, আর ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করা হতো কোথায় প্রতিযোগিতা হবে। মাঠের চারপাশে ভিড় জমাতো মানুষ, উঠানে, গাছের ডালে, এমনকি ঘরের চালেও উঠত উৎসুক দর্শকরা। খেলার সময় লাঠির তালে তালে চলত ঢোলের বাদ্য, আর প্রতিপক্ষের আঘাত থেকে আত্মরক্ষার কৌশল দেখিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করত লাঠিয়ালরা।
কালের বিবর্তনে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। আধুনিক খেলাধুলার প্রসার, মোবাইল ও ইলেকট্রনিক গেমের প্রতি ঝোঁক, সামাজিক পরিবর্তন এবং প্রশিক্ষণের অভাবের কারণে লাঠি খেলার দল এখন গুটিয়ে গেছে। আগের মতো নতুন লাঠিয়াল তৈরির কোনো উদ্যোগ নেই, ফলে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে।
এখনো দেশের কিছু গ্রামে বিশেষ উপলক্ষে লাঠি খেলার আয়োজন হয়, যা আশা জাগায়। তবে এটি টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি। জাতীয় পর্যায়ে লাঠি খেলার প্রতিযোগিতা আয়োজন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার চালানো গেলে হয়তো এই ঐতিহ্য আবার প্রাণ ফিরে পেতে পারে।
লাঠি খেলা শুধু একটি খেলা নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও আত্মরক্ষার প্রতীক। সঠিক উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি আবার বাঙালির ঐতিহ্য হিসেবে ফিরে আসতে পারে।
আইন উপদেষ্টাঃ অ্যাডভোকেট জাকিয়া মিম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মামুন হাচান। মফস্বল সম্পাদক: শেখ মাহাবুব আলম। প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান। অস্থায়ী অফিস: মুজগুন্নি খালিশপুর খুলনা। যোগাযোগ: 01728-060690, ইমেইল: naragatirsangbad@gmail.com ( গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে বস্তু নিষ্ঠ তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করতে আমরা বদ্ধ পরিকর )।
Copyright © 2026 নড়াগাতীর সংবাদ. All rights reserved.