মনির খান স্টাফ রিপোর্টার।
নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কচুবাড়িয়া গ্রামে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাঁশ ও অন্যান্য গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী সুভাষ দাসের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী বিবেকানন্দ দাশ দাবি করেছেন, জমিটি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান থাকলেও কথিত কিছু বিএনপি নেতার ইন্ধনে অবৈধভাবে তার সম্পত্তির গাছপালা কেটে নেওয়া হচ্ছে।
বিবেকানন্দ দাশ জানান, কচুবাড়িয়া মৌজার ৯৬ নং মৌজাভুক্ত জমির খতিয়ান ও দাগ অনুযায়ী মোট ৮৮ শতক জমির মধ্যে ২৮ শতক জমি তিনি সুভাষ দাসের ভাই ও আরেক শরিক উত্তম দাসের কাছ থেকে ২৬ অক্টোবর ১৯৯৭ সালে দলিল নং ৩৭২৩-এর মাধ্যমে ক্রয় করেন।
জমি নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে ইতোমধ্যেই এলএসটি মামলা এবং পার্টিশন/আমানত মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, “আমি জেলহাজতে থাকার সুযোগে সুভাষ দাস আমার ওই জমিতে থাকা বাঁশ ও গাছপালা জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। তার পেছনে ইন্ধন দিচ্ছেন কচুবড়িয়া গ্রামের বিএনপি নেতা আজাদুল হক ও কাশিপুর এলাকার রিয়াজ, যারা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হুমকি দিয়ে আসছেন।”
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি একাধিকবার লোহাগড়া থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে ও তার কোনো সুষ্ঠু সমাধান পাইনি। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর নিকট অভিযোগ জানানো হলে, তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিদর্শন করেন! উভয়পক্ষকে এক সপ্তাহ সময় দিয়ে বলেন,যার যার বৈধ কাগজপত্র নিয়ে থানায় বসে সমাধান করতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন। জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকলে গাছ কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং প্রমাণ হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, কচুবাড়িয়া মৌজার ২৪ শতক জমি নিয়ে সুভাষ চন্দ্র দাশ গং এর নামে দেওয়ানি মামলা (নং ৯৪/২০০৯) দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন রয়েছে। এই জমিতেই গাছ কাটার ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিবেকানন্দ দাশের মেয়ে বনিরানী দাশ ২৩ মে ২০২৫ তারিখে লোহাগড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, “অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গ্রামবাসীর অনেকে মনে করছেন, আদালতে বিচারাধীন জমিতে একতরফা গাছ কাটা এবং হুমকি প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনি। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আইন উপদেষ্টাঃ অ্যাডভোকেট জাকিয়া মিম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মামুন হাচান। মফস্বল সম্পাদক: শেখ মাহাবুব আলম। প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান। অস্থায়ী অফিস: মুজগুন্নি খালিশপুর খুলনা। যোগাযোগ: 01728-060690, ইমেইল: naragatirsangbad@gmail.com ( গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে বস্তু নিষ্ঠ তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করতে আমরা বদ্ধ পরিকর )।
Copyright © 2026 নড়াগাতীর সংবাদ. All rights reserved.