সম্পাদকীয়
বাংলাদেশের একজন লেখক, অথই নূরুল আমিন, সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন—“বাংলাদেশের নব্বই ভাগ সাংবাদিক চাঁদাবাজি করে জীবনযাপন করছে। এর হিসাব কে দেবে?” এমন একটি বাক্য শুধু হতাশাজনক নয়, এই দেশের সাংবাদিক সমাজ, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর একটি বড় প্রশ্নবিদ্ধ আঘাত।
একটি জাতি তার বিবেক হিসেবে যাদের দেখে—তাদের ৯০ ভাগকে সরাসরি “চাঁদাবাজ” বলা কি কেবল অসৌজন্যমূলক, না কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপমান?
বাংলাদেশের সাংবাদিকরা শহর, মফস্বল, সীমান্ত, পাহাড়—সব জায়গায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করেন, ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরেন, নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হন। রাজনৈতিক নিপীড়ন, হয়রানি, মিথ্যা মামলা—এসব কিছু সয়ে তবুও তারা কাজ করেন। এই পেশায় সম্মান ও ঝুঁকি—দুই-ই বেশি। অথচ তাঁদের সম্পর্কে এমন ঢালাও অপবাদ দেওয়া শুধু দায়িত্বহীন নয়, সমাজে ঘৃণা উসকে দেওয়ার শামিল।
সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যতিক্রম নিশ্চয় আছে। কেউ কেউ অন্যায় করে থাকলে সমালোচনা হোক, তথ্য-ভিত্তিক তদন্ত হোক, অভিযোগ প্রমাণ হলে আইনও চলুক। কিন্তু “নব্বই ভাগ সাংবাদিক চাঁদাবাজ”—এই বয়ান কি কোনো নির্ভরযোগ্য গবেষণা, আদালতের পর্যবেক্ষণ, নাকি তথ্যানুসন্ধানী প্রমাণের ওপর দাঁড়িয়ে বলা হয়েছে? না কি এটা কেবল নিজের রাগ, অস্বস্তি বা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ?
একজন লেখকের কলম কেবল অনুভবের বাহক নয়—তা সমাজচিন্তার প্রতিফলন। আর সেই লেখনী যদি জাতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশাকে হেয় করে, প্রশ্ন তো উঠবেই—এ ধরনের মন্তব্যের দায় কে নেবে?
এখানে বিষয়টি শুধু সাংবাদিকদের সম্মানের নয়—এটা সাধারণ মানুষের তথ্য জানার অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতি আস্থা রক্ষার প্রশ্ন। সাংবাদিকদের প্রতি জনগণের যে আস্থা, তা একটি অসংযত বাক্য দিয়ে ধ্বংস করার অধিকার কারও নেই।
আমরা মনে করি, একজন লেখক বা চিন্তাশীল নাগরিক হিসেবে অথই নূরুল আমিনের আরও সংযত হওয়া উচিত ছিল। একজন সাংবাদিক যা বলেন, তা তদন্ত করে বলেন—একজন লেখক যখন বলেন, তারও উচিত তথ্য ও দায়বদ্ধতা মেনে চলা।
আমরা এমন বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাই না, বরং বলি—এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে উনি যদি কোনো তথ্য, প্রমাণ, পরিসংখ্যান বা অনুসন্ধান হাজির করতে পারেন, তবে সেটি আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করবে। অন্যথায়, এই মন্তব্য শুধু বেসুরো নয়, তা ক্ষতিকরও।
অথচ তার নিজের তথ্য অনুযায়ী , কবির লেখা কবিতা অন্তত ৩৪টি পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে। এই ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের কেউ তার কাছ থেকে একটি টাকা নিয়েছেন বলে মনে হয় না। বরং সাংবাদিকরাই তার সাহিত্যকে জায়গা দিয়েছেন, কবিতাকে ছাপার অক্ষরে তুলে এনেছেন, নতুন পাঠক তৈরি করেছেন।
তাহলে প্রশ্ন ওঠে—এই অবদানের প্রতিদানে তিনি সাংবাদিকদের ‘চাঁদাবাজ’ বললেন কেন?
এটা কি তাঁর প্রকাশ পাওয়া কবিতার জনপ্রিয়তার প্রতিদান? নাকি এটা সেই সংস্কৃতির অংশ, যেখানে নিজে সুবিধা নেওয়ার পর অন্যকে হেয় করা হয়?
সাংবাদিকতা পেশা নয়, দায়িত্ব। এবং যারা সেই দায়িত্ব পালন করেন, তাদের সম্মান ক্ষুণ্ন হলে তা গোটা জাতিরই ক্ষতি। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট—সমালোচনা হোক, কিন্তু অপমান নয়। মতপ্রকাশ হোক, কিন্তু দায়িত্বহীন না।
আইন উপদেষ্টাঃ অ্যাডভোকেট জাকিয়া মিম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মামুন হাচান। মফস্বল সম্পাদক: শেখ মাহাবুব আলম। প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান। অস্থায়ী অফিস: মুজগুন্নি খালিশপুর খুলনা। যোগাযোগ: 01728-060690, ইমেইল: naragatirsangbad@gmail.com ( গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে বস্তু নিষ্ঠ তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করতে আমরা বদ্ধ পরিকর )।
Copyright © 2026 নড়াগাতীর সংবাদ. All rights reserved.