
আলী আজীম, মোংলা (বাগেরহাট):
সমাজের শান্তি, সম্প্রীতি ও মঙ্গলের জন্য কাজ করা সবার দায়িত্ব। একই সঙ্গে অন্যায়, অবিচার ও অসংগতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোও আমাদের সকলের কর্তব্য—এমন মন্তব্য করেছেন নব নির্বাচিত মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো. জুলফিকার আলী।
শনিবার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি (জন্মাষ্টমী) উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।
জুলফিকার আলী আরও বলেন, “ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সকলে মিলে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলব। পারস্পরিক সহাবস্থানের মাধ্যমে সকল ধর্মের মানুষ একত্রে বসবাস করবে—এটাই আমাদের দেশের ঐতিহ্য। প্রত্যেক ব্যক্তি তার ধর্ম পালন করবে, এবং বিএনপি অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পাশে থাকবে।”
এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিকসহ আরও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়, যা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিপুলসংখ্যক হিন্দু সনাতনী ভক্ত অংশগ্রহণ করে। ঢোল-তবলার ছন্দে শ্রীকৃষ্ণের নাম-গান এবং কীর্তনের মাধ্যমে ভক্তরা ভগবানের আগমনকে স্বাগত জানান।
পূজার আনুষ্ঠানিকতার শেষে ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে অঞ্জলি প্রদান করেন এবং শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী গীতা পাঠ ও কীর্তন করেন। এরপর প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের রক্ষা, নিপীড়নের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং মানবকল্যাণের জন্য শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে অবতার হয়েছেন। শাস্ত্র মতে, দ্বাপর যুগের ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমীতে দেবকী ও বসুদেবের ঘরে তাঁর জন্ম ঘটে। সেই সময় পাশবিক শক্তি চারদিকে ন্যায় ও সত্যকে দমন করছিল, তখন শ্রীবিষ্ণু কৃষ্ণরূপে অবতার হয়ে অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে সত্য, সুন্দর ও মানবিকতার জয় প্রতিষ্ঠা করেন।