
নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইলের নড়াগাতীতে ‘ড. রাফি-ড. বেগম মেমোরিয়াল’ জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ ও ২৫ হাজার গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে নড়াগাতী থানার পানিপাড়া এলাকায় অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব চত্বরে এ আয়োজন করা হয়। ক্রীড়ার প্রসারের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব কমিটির সভাপতি খবির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন শাহবাজ টুরিজমের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর মনিরুল শেখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটরসের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হানিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়ানুরাগী ও ক্রীড়া সংগঠক অনুপম হোসেন, টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক এ কে এম শহীদুল আলম এবং অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইরফান আহমেদসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।
আয়োজকেরা জানান, গত ১৬ ও ১৭ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবে ‘ড. রাফি-ড. বেগম মেমোরিয়াল’ জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্লাবের ক্ষুদে ও জুনিয়র গলফারদের পাশাপাশি স্থানীয় উদীয়মান গলফাররা অংশ নেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও কৃতী গলফারদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিশু ও তরুণ গলফারদের প্রতিভা বিকাশ, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে গলফের প্রসারে ভূমিকা রাখবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করে তোলাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির ২৫ হাজার গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। আয়োজকেরা জানান, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণের অঙ্গীকারের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হবে।
কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ১২ হাজার গাছের চারা রোপণ ও বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আগামী এক বছরের মধ্যে আরও ১৩ হাজার গাছের চারা রোপণ ও বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন আয়োজকেরা। তাঁদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়বে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমন্বয়ে আয়োজিত এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চা এবং পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।