
হাবিবুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি
আজগড়া, রূপসা (খুলনা), বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫:
শিক্ষার্থীদের নৈতিক, মানসিক ও শিক্ষাগত উৎকর্ষতা নিশ্চিত করতে পরিবার ও বিদ্যালয়ের যৌথ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে আজগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় অভিভাবক সমাবেশ-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মিলিত হয় এক আন্তরিক সংলাপের পরিবেশ।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সমাজসেবী ও মেসেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান পলাশ। তিনি বলেন,“বিদ্যালয়ের অগ্রগতি কেবল শিক্ষক বা প্রশাসনের দায়িত্ব নয়। একজন অভিভাবককেও জানতে হবে তার সন্তানের স্কুলজীবন কেমন যাচ্ছে, সে আদর্শ ও নৈতিকতায় বেড়ে উঠছে কি না। শিক্ষা মানে শুধু পাস করা নয়, শিক্ষা মানে মানুষ হওয়া। সেই মানুষ গড়ার কাজে অভিভাবককেও পাশে থাকতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ আলী, সহকারী অধ্যাপক (অর্থনীতি) ও সহকারী পরিচালক, এইচএসটিটিআই, খুলনা। তিনি বলেন,“শিক্ষা এখন আর শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আজকের শিক্ষার্থীকে আগামী দিনের নেতা, গবেষক বা চিন্তাশীল নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করতে হলে আমাদের পাঠদান পদ্ধতি এবং অভিভাবকীয় মনোভাব—দুটোই যুগোপযোগী হতে হবে। বিদ্যালয় ও পরিবার একসাথে কাজ করলে শিক্ষার্থীর ভেতরের সম্ভাবনা প্রস্ফুটিত হবেই।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যশোমন্ত ধর। স্বাগত বক্তব্যে তিনি জানান,“আমরা চাই আজগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী শুধু পরীক্ষায় ভালো করুক, তা নয়—তারা যেন আদর্শ মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে। সে লক্ষ্যে আমাদের শিক্ষকগণ যেমন আন্তরিক, তেমনি অভিভাবকদের সম্পৃক্ততাও আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখি।”
অভিভাবকরা বলেন,“আমরা আমাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চাই, কিন্তু সেটি সম্ভব তখনই যখন শিক্ষক-অভিভাবকের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক থাকে। আজগড়া স্কুল আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে দিচ্ছে, এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের আস্থা যেমন আছে, তেমনি দায়িত্বও আছে পাশে থাকার।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এস. এ. আনোয়ার-উল কুদ্দুস, ওয়েল মিনির প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধি মোঃ ইকবাল হোসেন, সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবকগণ, শিক্ষার্থীরা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় এক সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত সকলকে আনন্দিত করে।