
শেখ মাহতাব হোসেন
ডুমুরিয়া (খুলনা): “কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ”—এই কথাটিই সত্য প্রমাণ করলেন ডুমুরিয়ার পরিশ্রমী কৃষকরা। চলতি মৌসুমে উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফেরেছে হাসি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজে মোড়া মাঠে ধানগাছের ঢেউ। কৃষকের মুখে তৃপ্তি, মনে আশার আলো। খর্নিয়া ইউনিয়নের নুরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষা মৌসুমে সেচ কম লাগে, তবে পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি হয়। কীটনাশক ও সারের দাম বেড়েছে, তবু ফলন ভালো হওয়ায় লাভবান হওয়ার আশা করছি।”
শোভনা ইউনিয়নের মো. আবুল কালাম বলেন, “আমি ব্রি ধান ৭৫ জাতের চাষ করেছি। বিঘা প্রতি ২০-২২ মণ ধান আশা করছি।” রুদাঘরা ইউনিয়নের কায়সার আলী জানান, “নতুন ব্রি ধান ১০৩ চাষ করেছি। বিঘা প্রতি ২৮-৩২ মণ ফলন হবে। তবে সার ও শ্রমিকের দাম বেড়ে গেছে। এখন ধান কাটতে একজন শ্রমিককে ৭০০-৮০০ টাকা দিতে হচ্ছে, তবু শ্রমিক পাওয়া কঠিন।” ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ব্রি ধান ৪৯ জাতের চাষ করেছি। এক বিঘা জমিতে ২৮-৩০ মণ ধান উৎপাদনের আশা।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, “চলতি মৌসুমে ১৪,৯৩৯ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। বিভিন্ন জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ফলন আশানুরূপ হওয়ায় কৃষকরা সন্তুষ্ট।”
খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “অনুকূল আবহাওয়া ও কম কীটপতঙ্গের আক্রমণেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। বাম্পার ফলনে কৃষকরা খুশি। আবহাওয়া ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে প্রত্যাশিত লাভ পাবেন।”