
এস এম দেলোয়ার হোসেন।
মানুষকে তার আসল আচরণ থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থা না থাকার কারণে, মানুষকে কেন জানি কিভাবে সমাজ শিক্ষা দিয়েছে টাকা ছাড়া জীবনটা একেবারে অপূর্ণ,সম্মানহীন।
চরিত্র কেমন সেটা বিবেচনা করা পরের কথা
টাকা কতটুক আছে বা সম্পদ কতটুক আছে সেটা পরের কথা, ব্যক্তি মানসিকতা কেমন সেটা দেখে মানুষকে সম্মান অথবা ভালোবাসা উচিত এই শিক্ষাটা দেওয়া থেকে বর্তমান সমাজ পিছিয়ে আছে।
মানুষ পরিস্থিতি লক্ষ্য করে চলতে থাকে, যেদিকটাই মানুষ মূল্য পায় সে দিকটাই মানুষ ধাবিত হয়।
একটি ব্যক্তির সম্পদ তেমন না থাকলেও চলবে তার ভালো মানসিকতার প্রয়োজন আছে এবং তার চরিত্রগত দিকের প্রয়োজন আছে, আর স্বাভাবিক জীবন যাপনের মত সক্ষমতা থাকলেই চলবে, আর এই সুন্দর মানসিকতা বা আচরণ দিয়ে সুন্দর সমাজ বা জাতি গড়তে হবে, এখানেই সম্মান দেয়া হবে বা এখানে সম্মান পাবে, এটা বোঝাতে বা অর্জন করতে আমাদের সমাজ সক্ষম হয়নি, এটা বোঝাতে ব্যর্থ আমাদের সমাজ।
আমাদের সমাজে ঘটে যাওয়া কার্যকলাপ থেকে যা প্রমানিত হয়, তা হল ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা যত উন্নত সেই ব্যক্তি তত সম্মানপ্রাপ্ত, সুন্দর একটি সুভাষী ব্যাক্তি, চরিত্রবান।
আর্থিকভাবে সে তেমন একটা উন্নত না,তবে তার মুখ থেকে প্রকাশিত কথাগুলো আর তার ব্যবহার অনেক সুন্দর, যা থেকে শিক্ষা নিয়ে তরুণ সমাজ তাদের আচরণগুলো উন্নত থেকে উন্নত করতে পারে, উন্নত করতে পারে তাদের উপার্জনের রাস্তাগুলো চুরি ব্যতীত, যা অতি সম্মানজনক।
এমন কোন ব্যক্তিকে আমাদের সমাজে মূল্যায়ন করা হয় না, যার অর্থ দাঁড়ালো সততা বা চরিত্রগত বা চরিত্রবান ব্যক্তিকে অবহেলা করা, যার ফলে চরিত্র বা আচরণগত দিকের মৃত্যু ঘটে।
গড়ে ওঠে না চরিত্রবান ভালো মানুষ, সমাজটা পর্যায়ক্রমে নিম্নের দিকে ধাবিত হয়ে চলছে, নষ্ট হচ্ছে তরুণদের আচরণ, ব্যক্তিত্ব।
আমাদের সমাজের সঠিক ব্যক্তিকে যদি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হতো বা এতটুকু শিক্ষা দেয়া হতো, যে যতটা আদর্শিক হবে সে ততটাই সম্মান পাবে।
তবে কখনো সঠিক ব্যক্তির মান নিচে থাকত না, বা সেই শিক্ষাটা নেয়া থেকে তরুণ সমাজ পিছিয়ে থাকতো না।
আমাদের সমাজ এমনভাবে চলমান, যেখান থেকে তরুণ সমাজ ভালো কোন শিক্ষা গুরুত্ব সহকারে অর্জন করে থাকে না, কারণ সেখানে কোন সম্মান বা মর্যাদা পাওয়া যায় না বাস্তব কর্মজীবনে।
আমাদের শিক্ষা বা সমাজ ব্যবস্থা সব সময় সম্পদশালীদের কেই মূল্যায়ন করে আসছে, সেই সম্পদ কোথা হতেও উপার্জিত সেটা বিবেচনা ছাড়াই, তাই এখন সবাই অন্ধের মতই সম্পদ উপার্জনে ব্যস্ত।
কারণ একটাই, তারা বুঝে গিয়েছে সম্পদেই তাদের সম্মান।
আমাদের চিন্তাধারা পরিবর্তন করা উচিত, আমাদেরকে এমনভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা বা সমাজের দিকটা পরিবর্তন করতে হবে, যেখান থেকে আমরা বা তরুন সমাজরা এতোটুকু অনুভব করতে পারি যে, আমাদের চরিত্র বা উপার্জনের সঠিক দিকটাই বেশি সম্মানের, এদিকটাই আমাদেরকে ঠিক রেখে বা লক্ষ্য রেখে জীবন পরিচালনা করতে হবে,আগাতে হবে সামনের দিকে।
তবে আমাদের সমাজের পরিবর্তন সাধিত হবে,
পুরোপুরি ভাবে মানুষ শিক্ষার জ্ঞানে আলোকিত হবে, সবাই হবে পাঠ্যবই অনুযায়ী সুশিক্ষিত।
আমাদের মানসিক পরিবর্তন ঘটানো খুবই জরুরী, তা নইলে আমাদের চলমান ধারা এমনই থেকে যাবে, নিজেদের পরিবর্তন ঘটিয়ে সঠিক পথে ফিরতে পারবো না আমরা।
আমাদের সমাজ বদলাতে, মানুষের ভিতরে মানুষের ভালোবাসা বাড়াতে, বিশ্বের কাছে শিক্ষার আলোকে তুলে ধরতে আমাদের বিবেক টাকে জাগ্রত করা উচিত।
আমাদের শিক্ষার দিকটা এমন ভাবেই ঘুরিয়ে তুলতে হবে, যাতে করে সমস্ত আগামী প্রজন্ম মনে করে থাকে যে আমাদের সম্পদ নয়, আমাদের আচরণগত দিকটাই আমাদের সম্মান, আমাদের সঠিক বন্টন করা শিখাটাই আমাদের সঠিক শিক্ষা, এটাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, এটাই আমাদের কর্ম হওয়া উচিত, আর এটাই আমরা করব।
এভাবে আমাদের মানসিক চিন্তাধারার পরিবর্তন ঘটা অতীব জরুরি, সমাজকে নষ্টের হাত থেকে বাঁচাতে, মানুষের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে, মানুষের কাছে মানুষের ভালোবাসা বাঁচাতে, আমাদেরকে একনিষ্ঠ ভাবে সামনের দিকে এগোতে হবে।
আসুন আমরা সম্মানী ব্যক্তি কে সম্মান করি,
যারা শিক্ষা বা সমাজ নষ্ট করে তাদেরকে ঘৃণা করি,
গড়ে তুলি আগামী প্রজন্মে সব আদর্শ মানুষ,
যতটা সম্ভব আপন আপন দায়িত্ব থেকে অপরাধটা কমিয়ে ফেলি, সুশীল সমাজ গড়ে তুলি।এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।