ঈদ এলেই দেশের সড়ক-মহাসড়কে এক বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে পুরনো, ফিটনেসবিহীন ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া যানবাহন গিজগিজ করে রাস্তায় নেমে পড়ে। এবারের চিত্রও ব্যতিক্রম নয়। খুলনা অঞ্চলের বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়, দেশে কতটা ভয়াবহ অবস্থা অপেক্ষা করছে ঘরমুখো মানুষের জন্য।
ফিটনেসবিহীন ৭ হাজারের বেশি যানবাহন রাস্তায়:
বিআরটিএ খুলনা কার্যালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন রুটে ফিটনেস ছাড়াই ৭,২৮৯টি যানবাহন চলছে। এসব যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের রুটিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যায়নি। ফিটনেসবিহীন পরিবহন রাস্তায় নামা মানেই যেকোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা। শুধু তাই নয়, এসব যানবাহনের বেশিরভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ, যা মূলত ‘মৃত্যুফাঁদ’ হিসেবে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
জরাজীর্ণ বাস: নতুন রং-তুলি, পুরনো ঝুঁকি:
ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুরাতন, ভাঙাচোরা বাসগুলোকে ঝালাই করে নতুন রং দিয়ে রাস্তায় নামানো হচ্ছে। সাময়িকভাবে বাহ্যিক চেহারা পাল্টে ফেলা হলেও কাঠামোগত দুর্বলতা থেকেই যায়। ফলে সামান্য ধাক্কায় কিংবা অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে এগুলো বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
যাত্রীদের জীবনের চেয়ে কি ব্যবসার লাভ বেশি?:
প্রশ্ন হচ্ছে, এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন কিভাবে রাস্তায় চলাচলের অনুমতি পায়? পরিবহন মালিকরা কীভাবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন? নাকি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো গাফিলতি আছে? এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এখনই যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আসন্ন ঈদযাত্রা কেবল ভোগান্তির নয়, প্রাণহানির কারণও হতে পারে। তাই জরুরি ভিত্তিতে ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তায় নামা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ঈদযাত্রা আবারও পরিণত হবে শোকযাত্রায়।