
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২২ এপ্রিল:
উত্তরার শহীদ মুগ্ধ চত্বরে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে জুলাই ছাত্র আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁরা নতুন একটি প্রতিবাদী প্ল্যাটফর্ম ‘জুলাই ব্রিগেড’-এর আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন।
“জুলাই শহীদ পরিবারের চিৎকার রাষ্ট্র শুনবে কি?”—এই প্রতিপাদ্যে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের সাংগামের মোড়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ১৩টি শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তাঁরা বলেন, “শহীদ ছাত্র-জনতার খুনি হাসিনার দোসরদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই দেশে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। আওয়ামী লীগ একটি খুনি সংগঠন—এটি নিষিদ্ধ করতে হবে।”
বক্তব্যে তাঁরা জানান, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালে শান্তিপূর্ণ ছাত্র-জনতার উপর নির্মম নির্যাতন চালায় সরকার-সমর্থিত সন্ত্রাসীরা। এ সময় বহু তরুণ নিহত হন। তবে ৮ মাস পার হলেও বিচার তো দূরের কথা, তাঁদের পাশে দাঁড়ায়নি রাষ্ট্র কিংবা সমাজ। বরং খুনিরা প্রকাশ্যে মিছিল করছে—এ যেন শহীদদের আত্মত্যাগের অবমাননা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, ৫ আগস্টের পর থেকেই শহীদ পরিবারগুলোর জীবন থমকে গেছে। কর্মহীনতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং রাষ্ট্রীয় অবহেলার মাঝে তাঁরা বেঁচে আছেন।
তাঁরা বলেন, “আমরা জানি না সরকার আমাদের পাশে থাকবে কিনা, তবে আমরা জানি খুনিরা কিভাবে বুক ফুলিয়ে রাজপথে হাঁটে।”
তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, অন্তরবর্তীকালীন সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রশাসনে যারা ৫ আগস্টের ঘটনার সময় আত্মগোপনে ছিলেন, তারাই এখন আবার দুর্নীতিতে মেতে উঠেছেন।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, “জুনায়েদ আহমেদ পলক, শাহজাহান খান, হাসানুল হক ইনুর মতো নেতারা আজও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অথচ তাঁরা এই হত্যাযজ্ঞের রাজসাক্ষী হতে চেয়েছিলেন।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই ‘জুলাই ব্রিগেড’ ভবিষ্যতে শহীদদের বিচার, খুনিদের গ্রেপ্তার এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার জন্য ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি এবং থাকবো—যতদিন না বিচার হবে, ততদিন এই আন্দোলন চলবে।”