
খন্দকার ছদরুজ্জামান, নড়াইল
এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে এলে নড়াইল শহরের কোচিং সেন্টারগুলোর প্রতিযোগিতা যেন নতুন মাত্রা নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক, দেয়াল ও মোড়ে টাঙানো “উদ্ভাস” কোচিং সেন্টারের পোস্টার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দৃষ্টি কাড়ছে। “এসএসসি-২৬ মডেল টেস্ট”, “২ হাজার টাকা ছাড়”, “টেস্ট পরীক্ষার পর ক্লাস শুরু”—এ ধরনের আকর্ষণীয় স্লোগান সম্বলিত পোস্টার এখন বহুল প্রচারিত।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাঁটানো পোস্টার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, একই নকশা ও একই বার্তার পোস্টার সারিবদ্ধভাবে টাঙানো। বড় অক্ষরে ছাড়ের ঘোষণা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির নামে বিবিধ সুবিধার প্রতিশ্রুতি অনেককে ভাবাচ্ছে—এসব কি প্রকৃত শিক্ষা সহায়তা, নাকি শিক্ষার্থী ধরতে বাণিজ্যিক কৌশল?
অভিভাবকদের একাংশ অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন ও প্রলোভন দেখিয়ে কোচিং সেন্টারগুলো এখন বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় নেমেছে। নিরাপদ সড়ক ও রেলপথ বাস্তবায়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম বলেন, “আমার সন্তানও এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টেস্ট পরীক্ষার পর অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এর পরও যদি কোনো কোচিং সেন্টার বিজ্ঞাপন দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে আকৃষ্ট করে, তাহলে এটি চরম বিপর্যয় হবে।” তিনি প্রশাসনের তদারকি বাড়ানোর আহ্বান জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের অফার দেখে মনে হচ্ছে টিউশনি নয়, যেন বাজার প্রতিযোগিতা চলছে। তাঁদের মতে, পড়াশোনার চেয়ে এখন বিজ্ঞাপনই বেশি জোরালো হয়ে উঠেছে।
শিক্ষাবিদরা এসব নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলেছেন। তাঁদের মত, কোচিং সেন্টারগুলো শিক্ষার মানের পরিবর্তে প্রচারণায় জোর দিলে শিক্ষার্থীরা ভুল পথে ধাবিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এ বিষয়ে ‘উদ্ভাস’-এর নড়াইল শাখার প্রধান রিপনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, উদ্ভাস পরিচালনাকারীদের মোবাইল নম্বর দেওয়া হবে না। ১০ হাজার ৫০০ টাকা ফি নিয়ে কী শেখানো হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা শুধু মডেল টেস্ট নেব। বিগত বছরের কিছু প্রশ্ন তাদের দেব। পরীক্ষা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলবে।”
উদ্ভাসসহ বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের এ ধরনের বাণিজ্যিকীকরণে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনের সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও দিকনির্দেশনাই পারে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।
NGS/MMH