
উম্মে উমামা রাত্রি
এসএমএস, ম্যাসেঞ্জার ও ই-কার্ডে সীমাবদ্ধ শুভেচ্ছা—স্মৃতিতে রয়ে গেছে কাগজের সেই ঈদ কার্ডের অনুভূতি
এক সময় ঈদের আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ কার্ড বিনিময়। বাহারি ডিজাইনের কার্ড কিনে তাতে নিজের হাতে শুভেচ্ছাবার্তা লিখে বন্ধু–স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়ার মধ্যেই ছিল আলাদা এক উচ্ছ্বাস ও আবেগ। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সেই ঐতিহ্য আজ অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।
বর্তমান সময়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোনের খুদে বার্তা (এসএমএস), ই-মেইল, ম্যাসেঞ্জার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কয়েক সেকেন্ডেই শত শত মানুষের কাছে শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হওয়ায় কাগজের ঈদ কার্ডের ব্যবহার দ্রুত কমে গেছে।
ঈদকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানপাটে নানা ধরনের পণ্য উঠলেও আগের মতো ঈদ কার্ড চোখে পড়ে না। অনেক দোকানে খোঁজ করেও পাওয়া যায় না রঙিন ও আকর্ষণীয় কার্ড। দোকানদারদের ভাষ্য, এখন প্রায় সবাই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। ফলে মোবাইলের মাধ্যমেই খুব সহজে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে দু–একজন কার্ডের খোঁজ করলেও চাহিদা এতটাই কম যে অধিকাংশ দোকানদার আর এসব কার্ড রাখেন না।
অথচ কয়েক বছর আগেও ঈদের আগে দোকানগুলো ভরে থাকত বাহারি ডিজাইনের ঈদ কার্ডে। বন্ধুদের জন্য কার্ড কিনে তাতে কী লেখা হবে, হাতের লেখার ধরন কেমন হবে—এসব নিয়ে চলত নানা পরিকল্পনা। অনেকেই কার্ড কেনার জন্য আলাদা করে টাকা জমাতেন বা বাসা থেকে বাড়তি টাকা নিতেন।
কার্ড কেনার পর সেটি লুকিয়ে রাখা হতো, যাতে যার জন্য কেনা হয়েছে সে আগে থেকে টের না পায়। ঈদের দিন বা তার আগেই প্রিয় বন্ধুর হাতে কার্ডটি তুলে দেওয়ার মধ্যে ছিল বিশেষ আনন্দ ও চমক।
অন্যদিকে যে কার্ডটি পেত, সে-ও সেটি বারবার খুলে পড়ত। বাসায় ফিরে আবার দেখত সেই শুভেচ্ছার কথা। ছোট্ট একটি কাগজের কার্ডে জমে থাকত অনেক আবেগ, ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের স্মৃতি।
কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম সেই অনুভূতি থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাচ্ছে। এখন ঈদের শুভেচ্ছা আসে ভার্চুয়াল মাধ্যমে—ই-কার্ড, এসএমএস বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। প্রযুক্তি যোগাযোগকে সহজ করলেও কোথাও যেন কমে গেছে আবেগের গভীরতা।
তাই অনেকেরই মনে হয়, ডিজিটাল যুগে শুভেচ্ছা বিনিময় যত সহজই হোক না কেন, পুরোনো দিনের কাগজের ঈদ কার্ডের সেই আন্তরিকতা ও অনুভূতির জায়গা আর পুরোপুরি পূরণ হয় না।