
নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইলের কালিয়ায় সাড়ে চার বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত তারিক চৌধুরীর ফাঁসির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় কালিয়া বাসস্ট্যান্ডে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কালিয়া থানা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিবাদী কর্মসূচিতে একত্রিত হন স্থানীয় জনগণ, সামাজিক সংগঠনের কর্মী, যুবক-যুবতী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সর্বস্তরের তৌহিদি জনতা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণসহ নানা অপরাধের হার ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। এর বিরুদ্ধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। তারা একযোগভাবে দাবি জানান, অভিযুক্ত ধর্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার কার্যকর করা হোক এবং তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি—মৃত্যুদণ্ড—দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন বর্বরতা করার সাহস না পায়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কালিয়া থানা সভাপতি মাওলানা আলী হুসাইন আহমেদ বলেন, “আজকের এই প্রতিবাদ শুধু একটি শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো সমাজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দাবিতে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—ধর্ষণের মতো অমানবিক অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ধর্ষক তারিক চৌধুরীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি স্থাপন করতে হবে, যাতে এমন অপরাধ আর ঘটতে না পারে।”
এসময় বক্তারা আরও বলেন, “এ ধরনের বর্বর ঘটনা দেশের প্রতিটি কোণে ঘটছে এবং আমাদের এই সমাজের নিরাপত্তাহীনতা প্রতিদিন বাড়ছে। রাষ্ট্র যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। একমাত্র দ্রুত বিচার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও শাস্তির কার্যকর বাস্তবায়নই পারে ধর্ষণের মতো অপরাধ ঠেকাতে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের উপজেলা আমির মাওলানা তরিকুল ইসলাম, ইসলামী যুব আন্দোলন কালিয়া থানার সভাপতি হাফেজ মাওলানা আবুল হাসান, কালিয়া পৌর শাখার সভাপতি মুফতি আজগর আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান বিশ্বাস, পৌর শাখার সহ-সভাপতি মো. ফরহাদ শেখ, মুজাহিদ কমিটির কালিয়া থানার সাধারণ সম্পাদক ক্বারী শামিম হোসেন, ও পৌর মুজাহিদ কমিটির সদস্য আলহাজ মো. লুৎফর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা আরও বলেন, “শুধু প্রতিবাদ নয়, সমাজে পরিবর্তন আনতে হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। শিশুদের জন্য বিশেষ আইন প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান দেন, “ধর্ষকের ফাঁসি চাই”, “শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করো”, “হুরনার জন্য বিচার চাই”, “দেশে ধর্ষণ বন্ধ করো”—এমন প্রতিবাদমূলক স্লোগানে কালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা গর্জে ওঠে।
কর্মসূচি চলাকালে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, “যদি দ্রুততার সাথে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করা হয়, তবে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এটি শুধু এক শিশুর জন্য নয়, সমস্ত দেশের শিশুদের নিরাপত্তার জন্য।”
এছাড়াও, বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তারা বলেন, “দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া কার্যকর করতে হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সমাজে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।”