
নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল
নড়াইলের কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিকের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও ডিলারশিপ বাতিলের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সার ও বীজ ডিলার মেসার্স আরাফাত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শেখ জামিল আহমেদ। অভিযোগপত্রটি জেলা প্রশাসক ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে জমা দেওয়া হয়। তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র, যা অভিযোগের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগের আরেক সহযোগী মো. সামিউল মোল্যা ঘুষের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের বলেন, “জনমুখে শুনেছি ঘুষ চাওয়া হয়েছে।” কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো অডিও বা ভিডিও প্রমাণ তার কাছে নেই বলে স্বীকার করেন।
মেসার্স আরাফাত ট্রেডার্সের কর্মচারী মো. নাযেব আলী বলেন, “আমি কিছু জানি না, তবে সামিউল মোল্যা বলেছিল কৃষি কর্মকর্তা নাকি ঘুষ চেয়েছেন।” আরেকজন সাক্ষী অহিদুজ্জামান কখনো বলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার মল্লিক ঘুষ চেয়েছেন, আবার কখনো বলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক চেয়েছেন—যা তার বক্তব্যে স্পষ্টতা অনুপস্থিত থাকার ইঙ্গিত দেয়।
স্থানীয় বাজার কমিটি ও ডিলারদের প্রতিবাদ:
মহাজন বাজার কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফুল আলম (ইয়ার আলী) বলেন, “মেসার্স আরাফাত ট্রেডার্স মহাজন বাজারে রয়েছে, এ তথ্যই আমার জানা ছিল না। কখনো তাকে মাউলী ইউনিয়নের কৃষকদের কাছে সার-বীজ বিক্রি করতে দেখিনি। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে প্রায় দেড়-দুই বছর আগে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “সামিউল মোল্যা দাবি করেছেন এক বছর বা ছয় মাস আগে কৃষি কর্মকর্তা ঘুষ চেয়েছেন, অথচ কেউই জানে না তিনি বাজারে এসেছিলেন। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
ফারিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এবং কালিয়া উপজেলা ডিলারশিপ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ প্রফেসর বলেন, “জামিল আহমেদ নিয়ম না মেনে সার বিক্রি করে এবং জরিমানার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে সামিউল মোল্যা অন্য ইউনিয়নের ভোটার, তিনি কীভাবে ডিলারশিপ পান তা-ই প্রশ্নবিদ্ধ। একজন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনসম্মুখে ঘুষ দাবি করেছেন—এটা কল্পনাপ্রসূত ও হাস্যকর।”
ডিলারশিপ কমিটির সভাপতি তপন কুমার দত্ত বলেন, “উপজেলার ১৮টি ডিলারশিপের কেউ কখনো কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিকের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ করেনি। তিনি সদালাপী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।”
কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য:
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক বলেন, “প্রায় দুই বছর আগে একজন কৃষকের অভিযোগে মেসার্স আরাফাত ট্রেডার্সে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নিয়ম না মেনে সার উত্তোলন ও বিক্রির কারণে তাকে শোকজ করা হয়। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জামিল আহমেদ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করেছেন। আর সামিউল মোল্যাকে আমি চিনিই না—তার অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি অনুসরণ করাই আমার অঙ্গীকার।”