
নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল:
নড়াইলের কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক আবারও একাধিক অভিযোগে খবরের শিরোনামে। ঘুষ দাবি, হেনস্তা, ডিলারশিপ বাতিলের হুমকি ও সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও জেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন।
সর্বশেষ অভিযোগে উপজেলার মহাজন বাজারের বিএডিসি অনুমোদিত সার ও বীজ ডিলার শেখ জামিল আহমেদ অভিযোগ করেন, ইভা মল্লিক তার কাছ থেকে ঘুষ দাবি ও ডিলারশিপ বাতিলের হুমকি দিয়েছেন। এ বিষয়ে রোববার (৩ আগস্ট) দ্বিতীয় দফায় জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। অভিযোগের পর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত দল মহাজন বাজারে গিয়ে দোকান পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
তদন্ত দলের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ অফিসার সৌমিত্র সরকার, সহযোগী ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) ঋতুরাজ সরকার। তবে কমিটির আরেক সদস্য অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. জাহিদুল ইসলাম বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন না। সৌমিত্র সরকার জানান, “এটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত। জেলা প্রশাসক তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা প্রতিবেদন জমা দেব।”
এর আগে গত ২৮ জুন শেখ জামিল আহমেদ একই অভিযোগ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিল করেন, যার পর ১ জুলাই খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তিন সদস্যের একটি দল প্রথম দফায় কালিয়ায় তদন্তে যায়।
পরে, বাংলাদেশ ও বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত উপজেলার ১৪টি কৃষকদের পার্টনার ফিল্ড স্কুলে চরম অব্যবস্থাপনা, কৃষকদের সেশনের প্রাপ্য নাস্তা ও সম্মানি বাবদ পাওনা টাকা নিয়ে নয়-ছয়ের অভিযোগ ওঠে ইভা মল্লিকের বিরুদ্ধে। গত ৩১ জুলাই সময় সংবাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব অনিয়মের প্রমাণ প্রচারিত হলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং তীব্র সমালোচনা জন্ম দেয়।
এছাড়া, গত ৭ জুলাই স্থানীয় এক সার ও বীজ ডিলার দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ইভা মল্লিকের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন সমাজ বিশ্লেষক বলেন, “একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ, তদন্তে সত্যতা মিললেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তদন্ত কমিটিও কৃষি অধিদফতরের—অর্থাৎ নিজেরাই নিজেদের তদন্ত করছেন। এতে ‘সরিষার মধ্যে ভূত’ থাকলে প্রকৃত বিচার পাওয়া কঠিন।”