
নিজস্ব প্রতিবেদক
ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে, জরাজীর্ণ দেয়াল আর নড়বড়ে অবকাঠামোর মধ্যেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠ নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এমন পরিস্থিতি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মাউলী ইউনিয়নের মহাজন উত্তর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের বেহাল অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি শ্রেণিকক্ষের অবস্থাই জরাজীর্ণ। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে বিভিন্ন স্থানে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক পাখারও সংকট রয়েছে। সব মিলিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই বসে পড়াশোনা করছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলা রানী সরকার বলেন, “জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েও কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি।” তাঁর বক্তব্যে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকটের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাহিদা আক্তার, সহকারী শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস মুসল্লী ও অভিভাবক শহীদ মৃধাও ভবনটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, শ্রেণিকক্ষের এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই দেরি না করে ভবন সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে খাশিয়াল ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, “জরাজীর্ণ ভবনের তালিকায় বিদ্যালয়টির নাম রয়েছে। অস্থায়ী ঘর নির্মাণের প্রস্তাবসহ দুটি ডিও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।”
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান চলতে থাকলে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। তাঁদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।