
মো. শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় ইটভাটার জন্য মাটি টানা ট্রাক, ট্রাক্টর ও ভেকুর অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে এলজিইডি এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কোটি কোটি টাকার সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে পড়ছে। যদিও প্রশাসন থেকে একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা জারি করা হয়েছে, তবুও থেমে নেই এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
প্রতি বছর ইটভাটা মৌসুমে জমির উপরিভাগের উর্বর টপ-সয়েল কেটে মাটি সংগ্রহ করে বিক্রি করে একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এই মাটি ট্রলি ও ট্রাকে করে সরকারি পাকা রাস্তা ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়, ফলে অল্প কিছুদিনেই নতুন রাস্তা বেহাল দশায় পরিণত হয়। রাস্তায় পড়ে থাকা মাটিতে ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারে না এবং প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের তারাইল পূর্বপাড়ায় মেসার্স রহুল আমিন ব্রিকস ভেকু দিয়ে মাটি কেটে সরকারি রাস্তায় ট্রলি চালিয়ে পরিবহন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই পিচঢালা রাস্তা কাদায় পরিণত হয়, আবার শুষ্ক সময়ে রাস্তায় ধুলার ঝড় ওঠে। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষ মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছে।
উপজেলা প্রশাসন থেকে বারবার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও সংশ্লিষ্ট ইটভাটা কর্তৃপক্ষ তা অগ্রাহ্য করছে। গত মাসে রামদিয়া বাজার এলাকায় ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগে মো. সাহিনকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। একইভাবে, মহেশপুর ইউনিয়নের ব্যাসপুর মধ্যপাড়ায় মো. মিসকাতকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয় একই অপরাধে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন পাল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “জনস্বার্থে অভিযান চলমান থাকবে, অবৈধভাবে মাটি কাটা বা পরিবহন বরদাস্ত করা হবে না।”
এলজিইডি এবং উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সড়ক নির্মাণ ও সংরক্ষণে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অথচ এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সেসব ধ্বংস করছে। তারা কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে এই দুর্নীতির বলয় ভাঙার আহ্বান জানিয়েছেন।