
মো. শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচি বাঁধাগ্রস্ত করার অভিযোগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ৮৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
২৫ জুলাই (শুক্রবার) সন্ধ্যায় কাশিয়ানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন।
গাছ ফেলে মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা, অস্ত্র হাতে হামলার অভিযোগ
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৬ জুলাই উপজেলার মাজড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওপর গাছ কেটে ফেলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এ সময় আসামিরা ধারালো দা, করাত, লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রসহ মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং এনসিপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ভণ্ডুল করে। এ ঘটনায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বেশ কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা দলে দলে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত কিছু দেশীয় অস্ত্র ও গাছের গুড়ি জব্দ করেছে বলে জানিয়েছে।
পুলিশের অবস্থান: আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে
কাশিয়ানী থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, “এটি পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতা ও রাজনৈতিক কর্মসূচি ব্যাহত করার অপচেষ্টা। বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কাশিয়ানীতে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
কাশিয়ানীতে এনসিপির কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। এনসিপির নেতারা দাবি করেছেন, তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন, অথচ ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনের প্রতি স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।