
শাহাদাত হোসেন শাকিল
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার রতনপুরে সড়কের পাশে মুরগি ও গরুর বিষ্ঠা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। বিষাক্ত গন্ধে মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে, অনেকেই শারীরিক অসুস্থতার অভিযোগ করছেন।
সোমবার (২৪ মার্চ) বারপাড়া ইউনিয়নের রতনপুর বাজার সংলগ্ন পিপুলিয়া প্রবেশপথে দেখা যায়, সড়কের পাশে বিষ্ঠার বস্তাগুলো এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি বাবুল কোনো অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বসতিপূর্ণ এলাকায় এই খামার পরিচালনা করছেন।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও স্থানীয়দের ক্ষোভ:
গ্রামবাসীরা জানান, গত বছর ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে খামারটি সরানোর আবেদন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুস বলেন, “আমার বাড়ির পাশে বিষ্ঠার খামার, সারাক্ষণ দুর্গন্ধ ছড়ায়। স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
কলেজ শিক্ষার্থী সাইদ আহমেদ বলেন, “বসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের খামার থাকা উচিত নয়। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক।” পথচারী সোহেল বলেন, “বাবুল মিয়া আইনের তোয়াক্কা না করে পরিবেশ দূষণ করছেন। তার খামারের কোনো নিবন্ধন বা অনুমতি নেই।”
বাবুলের দম্ভোক্তি:
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বাবুল বলেন, “আমার বউ লালমাই ভূমি অফিসে চাকরি করে, কেউ আমার কিছু করতে পারবে না।”
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারহানা নাসরিন জানান, “বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ্ উদ্দিন বলেন, “এসব বিষ্ঠার কারণে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে, রোগব্যাধি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।”
নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া খানম বলেন, “জনগণের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লা জেলার উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজিব জানান, “আগেও সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু খামারটি এখনো সরানো হয়নি, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।