
কুয়েট প্রতিনিধি:
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ (রবিবার) তার বিশ্ববিদ্যালয় মর্যাদা লাভের ২২তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে। একদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে দিনটি নানা কর্মসূচিতে পালন করা হয়।
সকালে প্রশাসনিক ভবনের চত্ত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে একটি শোভাযাত্রা অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত “কুয়েটের অর্জন, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ” শীর্ষক প্রেজেন্টেশন ও আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলাম, এবং উদ্বোধনী বক্তৃতায় অংশগ্রহণ করেন LGED-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (অব.) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।
উদ্বোধনী সেশন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং একটি জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠিত হয়। দর্শনার্থীরা বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষাগার ও ল্যাব পরিদর্শন করেন। বিকেলে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্রদের মধ্যকার প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষক দল ২-১ গোলে ছাত্র দলের উপর বিজয়ী হয়। দিনশেষে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল ও সন্ধ্যায় অডিটোরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মাকসুদ হেলালী বলেন, “কুয়েটের সম্মান রক্ষা, বিকাশ ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী‑সহ সকলের অবদানের মাধ্যমে আমরা এ পর্যন্ত পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্বমঞ্চেও কুয়েটকে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।”
উল্লেখ্য, কুয়েট ১৯৬৭ সালে খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) হিসেবে রূপান্তরিত হয়। ১ সেপ্টেম্বর ২০০৩ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয় এবং এ বছরের এই দিনে ২২তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হলো।