
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের অগ্রগতি ও সাফল্য সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এ সময় তিনি বড়ডাঙ্গা চিংড়ি চাষি ক্লাস্টার পরিদর্শন করেন এবং চিংড়ির হারভেস্টিং কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (খুলনা) মো. বদরুজ্জামান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (বাগেরহাট) রাজকুমার বিশ্বাস, সিনিয়র সহকারী পরিচালক (খুলনা বিভাগ) এইচ এম বদরুজ্জামান এবং ডুমুরিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং উপদেষ্টা মহোদয়কে সার্বিক ব্রিফিং প্রদান করেন ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান। তিনি বলেন, পূর্বে চাষিদের উৎপাদন শতকপ্রতি মাত্র ১.৫ থেকে ২ কেজি ছিল। মৎস্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত কারিগরি পরামর্শের ফলে বর্তমানে উৎপাদন দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে শতকপ্রতি ৬ থেকে ৮ কেজিতে উন্নীত হয়েছে। সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় ঘেরের গভীরতা ৩ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি, পাড় প্রশস্তকরণ, জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রিবায়োটিক ও প্রবায়োটিক ব্যবহার, উন্নতমানের পিএল এবং গুণগতমানের খাদ্য ব্যবহারের মাধ্যমে এ সাফল্য এসেছে।
চিংড়ি চাষি মিতালি মন্ডল বলেন, কোস্টাল প্রকল্প ও উপজেলা মৎস্য অফিসের নিয়মিত পরামর্শে উৎপাদন বেড়েছে। এখন স্বামীর আয়ের পাশাপাশি তিনি নিজেও সংসারে আর্থিকভাবে অবদান রাখতে পারছেন। অপর চাষি শুভেন্দু বিশ্বাস বলেন, পানির গভীরতা বৃদ্ধি, জৈব নিরাপত্তা, ভালো মানের পিএল ও গুণগতমানের খাদ্য—এই চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েই তারা সাফল্য পাচ্ছেন। প্রয়োজনে মৎস্য অফিস দ্রুত সহযোগিতা করছে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, মাননীয় উপদেষ্টার আগমনে চাষিরা উৎসাহিত হয়েছেন। ডুমুরিয়ার অন্যতম বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা, যা মৎস্য চাষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসন কাজ করছে এবং এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, নারীরা মাছ ও চিংড়ি চাষে যুক্ত হয়ে নিজেদের জীবনমান উন্নত করছে—এটি অত্যন্ত ইতিবাচক। নিরাপদ মাছ উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার মৎস্য ও চিংড়ি চাষিদের কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় চিংড়ি চাষিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুজিত বিশ্বাস, জয়প্রকাশ বিশ্বাস, মারুফ সরদার, দীপঙ্কর গাইন, দীপঙ্কর মিস্ত্রী, শিউলি মন্ডল, বিথিকা মন্ডল, লাভলি মন্ডল, কল্পনা মন্ডল, মিতা বিশ্বাস ও নয়ন বিশ্বাসসহ প্রায় ৩০ জন ক্লাস্টারভুক্ত চাষি। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
NGS/MMH