
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আবাসিক হলগুলোতে আসন সংকট চরমে পৌঁছেছে। নির্ধারিত আবাসিক মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অনেক সিনিয়র শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করায়, নতুন করে সিট পাওয়া নবীন শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এতে বাড়ছে আর্থিক চাপ ও মানসিক দুর্ভোগ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনটি ছাত্র হলে একশ’র বেশি সিনিয়র শিক্ষার্থী এখনো অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ২০১৯-২০, ২০১৮-১৯ এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী স্নাতক বা স্নাতকোত্তর শেষ হওয়ার পর হল ছাড়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, “সিট পেলেও হলে উঠতে পারছি না। সিনিয়ররা জেনেশুনেই নিয়ম ভাঙছেন। এর ফলে বাড়তি খরচ হচ্ছে, মেসে থাকতে বাধ্য হচ্ছি।” খান জাহান আলী হলের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “সিনিয়ররা ফেব্রুয়ারিতে নামার কথা থাকলেও এখনো হলে রয়ে গেছেন। তাদের বলেও কোনো লাভ হয়নি।”
বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭ হাজারের বেশি হলেও হল রয়েছে মাত্র ৫টি। এসব হলে সর্বোচ্চ ২,৪৭০ জন শিক্ষার্থীর আবাসনের সুযোগ রয়েছে, যা মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ৩০ শতাংশ। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের আশপাশে মেস কিংবা বাসা ভাড়া করে বসবাস করছেন। ভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা টিউশনি ও নানা কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন—যা পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছে না। নতুন হল না হলে এই সংকট যাবে না।”
অপরদিকে, ছাত্র হলগুলোর পরিবেশ নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। খান জাহান আলী হলের শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যান্টিনের খাবার নিম্নমানের, অভিযোগ জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একইভাবে, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা হলে সিট সংখ্যা কম হওয়ায় সহজে আসন পাওয়া যায় না। মেয়েদের অপরাজিতা হলে ৫৭৬টি আসন থাকলেও গণরুম সংকট কিছুটা কমেছে।
এ বিষয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ও খান জাহান আলী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. খসরুল আলম বলেন, “হল ত্যাগ না করা শিক্ষার্থীদের আমরা দ্রুত হল থেকে নামানোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “আবাসন সংকট সমাধানে নতুন হল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জায়গার সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জায়গা সম্প্রসারণ হলে ভবিষ্যতে নতুন হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”