1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলের কালিয়ায় ১৮৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কালিয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বর্ষ উদযাপন যশোরে অনলাইন বেটিংয়ে জড়িত ৮ জন গ্রেপ্তার মাস্টার প্যারেডে জেলা পুলিশের প্রস্তুতি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার খুলনায় আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিয়ে আইনমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা পহরডাঙ্গা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান কাবুল বিশ্বাস হারানো সরকারি অস্ত্রের খোঁজে র‍্যাব, তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার নড়াইলের চরেরঘাটে ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ জন গ্রেপ্তার শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, আটক ৫ ‘ক্রসফায়ার’ নয়, আইনের পথেই সন্ত্রাস দমন: আইনমন্ত্রী

(খুমেক) সরকারি হাসপাতালের ভেতরে ভুয়া রিপোর্ট বাণিজ্য: অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন!

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  • ৮৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (খুমেক) ভেতরেই রমরমা ভুয়া প্যাথলজির ব্যবসা চলছে! হাসপাতালের নিচতলার এআরটি সেন্টারের ল্যাবে সিনডিড নামে একটি প্যাথলজি পরিচালনা করছিলেন হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. সেলিমুজ্জামান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী পরিচালক ডা. মিজানুর রহমান অভিযান চালিয়ে এই গোপন বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেন।

ভুয়া রিপোর্ট তৈরির কারখানা!

অভিযানে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র। উদ্ধার করা হয়েছে শত শত ভুয়া রিপোর্টের প্যাড, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের রিএজেন্ট, রিপোর্ট তৈরির জন্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও প্রিন্টার। জানা গেছে, হাসপাতালের ১৩০ নম্বর রুমে থাকা সরকারি ফ্রিজের রিএজেন্ট ব্যবহার করেই রোগীদের দেওয়া হতো ভুয়া রিপোর্ট।

সরকারি হাসপাতালের ল্যাবে গায়েবী প্যাথলজি বানিয়ে বছরের পর বছর ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন সেলিমুজ্জামান। নিজের ছেলের নামে সিনডিড ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার খুলে, সেই প্যাড ব্যবহার করে রিপোর্ট দিতেন তিনি। সরকারি হাসপাতালের নাম ব্যবহার করে প্রতারিত হচ্ছিল সাধারণ রোগীরা।

অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সহকারী পরিচালক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “কয়েকদিন ধরে খবর আসছিল, হাসপাতালের মধ্যেই ভুয়া রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। অভিযানে গিয়ে হাতে-নাতে প্রমাণ পাই। এরপর তাকে পরিচালক স্যারের রুমে নিয়ে আসা হয়। সেখানে উপ-পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক স্যাররাও উপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খুমেক হাসপাতালে কোনো ধরনের অনিয়ম চলবে না।”

অভিযানে আরও পাওয়া গেছে, গায়েবী রিপোর্ট তৈরির তথ্য গোপন রাখার বিনিময়ে কিছু চিকিৎসক ও হাসপাতালের নিরাপত্তা বাহিনীর (আনসার) সদস্যরা মোটা অঙ্কের কমিশন পেতেন। কমিশনের হিসাব সংরক্ষণের জন্য একটি রেজিস্ট্রার খাতাও পাওয়া গেছে, যেখানে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের নাম রয়েছে।

অভিযুক্তের দাবি,

তবে অভিযুক্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, “আমি কয়েকদিনের জন্য এটি করেছিলাম, এখন আর করি না। ব্যক্তিগত রিসার্চের জন্য কিছু পরীক্ষা করতাম। তবে এগুলো অনেক আগেই বন্ধ করেছি।”

তবে তার এই দাবির সঙ্গে বাস্তবতা মিলছে না, কারণ অভিযানে পাওয়া প্রমাণ বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই অনিয়ম চলছিল।

কঠোর শাস্তির দাবি,

খুলনার নাগরিক সমাজ ও সচেতন মহল এই প্রতারণার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সরকারি হাসপাতালে বসে রোগীদের সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণাকে ‘অমানবিক’ বলে উল্লেখ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

সরকারি হাসপাতালের ভেতরে ভুয়া রিপোর্ট তৈরির এমন চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park