
খুলনা প্রতিনিধি
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাস থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পুরাতন যশোর রোড ঘুরে পুনরায় ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেন আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন শিক্ষার্থী আকাশ সিকদার, রহমত, তাহমিদ, শিশির ও ইয়ারুল। সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন নামে একটি সংগঠন ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করছে।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমানের পদ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সংরক্ষণ, ১৯৭৮ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপনের আলোকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির কোটা ৫০ শতাংশে উন্নীতকরণ, প্রকৌশল কর্মক্ষেত্র ফিল্ড ও ডেস্কে বিভাজনপূর্বক ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার এবং ডেস্ক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ, প্রকৌশলীদের পেশা পরিবর্তন বন্ধ করে জাতীয় মেধার অপচয় রোধ, আন্তর্জাতিক টিম কনসেপ্ট অনুযায়ী ১:৫ অনুপাতে জনবল কাঠামো প্রণয়ন, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কারিকুলাম ইংরেজি ভার্সনে আধুনিকায়ন ও শিক্ষক স্বল্পতা দূরীকরণ, এবং পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি বৃদ্ধি ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি।
খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সম্পূর্ণ যৌক্তিক। দীর্ঘদিন ধরে তাদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য অযৌক্তিক তিন দফা দাবির পরিবর্তে এই ৭ দফা দাবি মেনে নেওয়া উচিত। এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
শিক্ষক মোঃ এমদাদুল হক বলেন, “ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা দেশের কারিগরি খাতের উন্নয়নের অন্যতম মূল ভিত্তি। দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাবির অগ্রাহ্য করা অনুচিত। এই ৭ দফা দাবির বাস্তবায়ন শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য।”
শিক্ষক মোঃ ওসিকুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন না করলে শিক্ষার্থীরা হতাশ হতে বাধ্য হবে। আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছি এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে তাদের ৭ দফা দাবির দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।”
শিক্ষার্থী আকাশ সিকদার বলেন, “আমরা আশা করি নীতিনির্ধারকরা আমাদের দাবিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন। আমাদের দীর্ঘমেয়াদী অধিকার ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে এই ৭ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যাবশ্যক।”
শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, “আমাদের এই বারবার আন্দোলন করতে হচ্ছে কারণ দাবি পূরণ হচ্ছে না। সরকার যদি দ্রুত আমাদের ৭ দফা দাবিগুলো মেনে নেন, আমরা আমাদের লেখাপড়ায় সঠিক মনোযোগ দিতে পারব এবং শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ব না।” শিক্ষার্থীরা সতর্ক করে বলেন, তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।