
খুলনার সোনাডাঙ্গা থানাধীন এলাকা থেকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি ঈশান কবির খান ওরফে জ্যোতিকে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। অভিযুক্তকে মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল ২০২৫) দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে সোনাডাঙ্গার ছোট বয়রা, শান্তিনগর এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, দেশে চাঞ্চল্যকর অপরাধ দমন ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীটি নিয়মিতভাবে সন্ত্রাসী, ধর্ষক, মাদক কারবারি ও পলাতক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করে আসছে। এই অভিযানের ক্ষেত্রেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হয় এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে মূল আসামিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিকটিম খুলনার বটিয়াঘাটা সরকারি ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রায় দুই মাস আগে তার সঙ্গে ১ নম্বর আসামি ঈশান কবির খানের পরিচয় হয়। বিবাহের প্রলোভনে আসামি তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।
গত ২৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আসামি ঈশান কবির খান ও তার সহযোগীরা খুলনা সদর থানাধীন রূপসা স্ট্যান্ড রোডের একটি ভাড়াবাড়িতে ভিকটিমকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে ঈশান ভিকটিমকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ২৮ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে ভিকটিম বিয়ের কথা বললে ঈশান ও অন্যান্য সহযোগীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ঈশান নিজ হাতে ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর ভিকটিমের মা বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর র্যাব-৬ দ্রুত ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত ঈশান কবির খানকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার জন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।