
মোঃ রাজু হাওলাদার খুলনা
খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন শিপইয়ার্ড মেইন রোড এলাকায় এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের (বয়স আনুমানিক ৩৫) হাত-পা বাঁধা এবং মাথা-পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ২৩ মে (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ঘটে। এতে এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হাজী মো. মোশাররফ হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. আশরাফুল ইসলাম গভীর রাতে কুকুরের ডাক শুনে জেগে ওঠেন। পরে তিনি বাড়ির পেছনের পাকা স্থানে মরদেহটি দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে লবণচরা থানার এসআই মো. জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বলেন, “মরদেহের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে। প্রথমে তাকে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে জখম করা হয়েছে এবং পরে পলিথিন মুড়িয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।”
নিহতের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। পরণে ছিল নীল রঙের জিন্স প্যান্ট এবং সবুজ রঙের টি-শার্ট। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পলিথিন, কাপড় ও রক্তাক্ত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে। খুলনার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হুমায়ুন কবির, লবণচরা থানার ওসি এবং পিবিআই-এর বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কার্যক্রম চলমান।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সম্প্রতি এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। রাতের বেলায় অচেনা মানুষের আনাগোনা ও কুকুরের ডাক নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। কেউ কেউ ধারণা করছেন, এটা পূর্বপরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক হামলা হতে পারে।, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের এলাকায় আগে ঘটেনি, এ অবস্থায় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, আমরা দ্রুত পুলিশ প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ আশা করছি এবং রাত্রিকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানাচ্ছি।”
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।