
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনা জেলা জুড়ে ছয়টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভিপি নূরুল হক নূরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদ। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে সক্রিয় প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। জুলাই–আগস্টের আন্দোলনে অংশগ্রহণ, আওয়ামী লীগ–জাপা ও ১৪ দল নিষিদ্ধের দাবিতে সোচ্চার ভূমিকা এবং স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় দলটি তরুণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। খুলনা মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার, ব্যানার, বিক্ষোভ মিছিল এবং বৈষম্যবিরোধী কর্মসূচির মাধ্যমে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক তৎপরতা বেড়েছে।
২০১৮ সালের কোটা সংস্কারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসেন নূরুল হক নূর। এরপর ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি পান। আন্দোলন থেকে সংগঠন—এই ধারায় তিনি ‘গণঅধিকার পরিষদ’ নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। শুরুতে অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া তাঁর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তিনি দলে নেই। খুলনায় তাঁর কয়েকজন অনুসারী এখনও সক্রিয় আছেন।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই–আগস্টের আন্দোলনের সময় শিববাড়ী ও জিরো পয়েন্ট এলাকায় দলটির নেতাকর্মীরা সক্রিয় ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কিছু অংশ তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর ফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সংগঠনের ভিত্তি শক্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও জাপাকে “স্বৈরশাসনের সহযোগী” বলে চিহ্নিত করে দলটি সম্প্রতি খুলনার ডাকবাংলা এলাকায় জাপা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে এবং দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে। তএদিকে শান্তিধাম মোড়ের পঞ্চবিথি ক্রীড়া চক্রকে ঘিরে দলীয় অবস্থান নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা হয় এবং মামলা পর্যন্ত গড়ায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি তালাবদ্ধ করে ও সেখানে নোটিশ ঝুলিয়ে দেয়। বর্তমানে ভবনটিতে কোনো ঝুঁকি নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দলের খুলনা জেলা সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে যেসব নাম এসেছে— খুলনা-১ আসনে জাহিদুর রহমান, খুলনা-২ এ রাশেদুল ইসলাম (এসকে রাশেদ), খুলনা-৩ এ মো. জনি, খুলনা-৪ এ সোহেল চৌধুরী, খুলনা-৫ এ সুপ্রিম কোর্টের দুদক আইনজীবী মো. খালিদ হোসেন এবং খুলনা-৬ এ জেলা সভাপতি বেলাল হোসেন। জেলা সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রচারে অনেক দূর এগিয়েছি। রূপসা, কয়রা, দিঘলিয়া ও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।” জেলা সভাপতি বেলাল হোসেনের ভাষায়, “প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে নূরুল হক নূরের নেতৃত্বে সচেতন ভোটাররা এবার সাড়া দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”