
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা
ক্লাইমেট-স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলনা কৃষি অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকাল ১১টায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকার প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের সাবেক পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ফজলুল হক মনি।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব খুলনা অঞ্চলের কৃষি ও কৃষিজীবী মানুষের জীবন-জীবিকায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা, দুর্বল পোল্ডার, অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ, সেচ-নিষ্কাশনের অভাব, মানসম্মত কৃষি উপকরণের সংকট এবং শুকনো মৌসুমে মাটি ও পানির লবণাক্ততা মিলিয়ে বহু জমি পতিত থাকে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় “ক্লাইমেট-স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলনা কৃষি অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন প্রকল্প” গ্রহণ করা হয়, যা ৩১ অক্টোবর ২০২১ তারিখে ৪৯.৭১ কোটি টাকায় পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন পায়। প্রকল্পটি খুলনা, নড়াইল, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ২৮টি উপজেলা এবং ২টি মেট্রো অফিসে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হবে ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে।
জলবায়ুজনিত কারণে রবি ও খরিপ মৌসুমে মোট আবাদযোগ্য জমির এক-চতুর্থাংশ পতিত থাকে। এ সমস্যা সমাধানে রিলে ফসল, মিশ্র ফসল, আন্তঃফসল, পলি-মালচ পদ্ধতি, সর্জন পদ্ধতি, ড্রিপ সেচ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানো হয়েছে।
প্রকল্পটি দক্ষ পানি ব্যবস্থাপনা, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার, ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ফসল উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করেছে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকরা স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠছেন, এবং বাজার বিশ্লেষণ ও প্রাথমিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে মুনাফা ও খরচ সাশ্রয়ে সফলতা পাচ্ছেন।
প্রকল্পের আওতায় মিনি পুকুর ও বরো পিট খননের মাধ্যমে এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে। জলাবদ্ধতা দূর করে জমির জো অবস্থা আনা হয়েছে। সূর্যমুখী এক্সপেলার মেশিন বিতরণের ফলে সূর্যমুখী চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কোকোনাট ক্লাইম্বারের মাধ্যমে নারকেল গাছে ওঠা সহজ হয়েছে।
প্রকল্প এলাকায় অভিঘাত সহনশীল মাঠ ফসল সম্প্রসারণ, স্বল্প পানির চাহিদা সম্পন্ন ফসল চাষ, ঘেরের পাড়ে আগাম উচ্চমূল্যের ফসল চাষ, অফ সিজনের তরমুজ, সূর্যমুখী, গ্রীষ্মকালীন শিম ও টমেটোসহ নানা উদ্ভাবনী কৃষি চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে। উন্নত জাত ব্যবস্থাপনা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে পতিত জমি পুনঃব্যবহার সম্ভব হয়েছে।
ফলে প্রকল্পটি খুলনা অঞ্চলে কৃষক ও কৃষির অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রেখেছে।