
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)
ডুমুরিয়া-ফুলতলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ আসনে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৈরি হতে পারে হাই ভোল্টেজের লড়াই। একসময় একই জোট রাজনীতির ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন দুই প্রভাবশালী নেতা—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বিএনপির সাবেক এমপি, বিসিবির সাবেক সভাপতি ও জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোহাম্মদ আলী আসগর লবী। সময়ের ব্যবধানে এবার তারা ভোটের মাঠে হতে পারেন মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বী।
২০০১ সালে খুলনার রাজনীতিতে উত্থান ঘটে মোহাম্মদ আলী আসগর লবীর। ওই বছর খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে বেগম খালেদা জিয়া বিজয়ী হওয়ার পর উপনির্বাচনে আলী আসগর লবী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি জেলার বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তার জন্য পরিচিতি পান। ওয়ান ইলেভেনের সময় তিনি গ্রেফতার হন, ব্যাংক হিসাব জব্দ হয়, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ও আর্থিক চাপে থাকেন। তাঁর অনুসারীরা দাবি করেন, ১৭ বছর ধরে তিনি ত্যাগী নেতা হিসেবে দলের পাশে রয়েছেন এবং সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এলাকায় জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০০১ সালে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে চারদলীয় জোটের মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি এলাকার প্রান্তিক অঞ্চলে উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করেন। কিন্তু গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের জেল-জুলুম ও মিথ্যা মামলার কারণে অধিকাংশ সময়ই তাকে কারাগারে কাটাতে হয়। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও কারাগার গেট থেকে একাধিকবার নতুন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুক্তি পেয়ে তিনি আবার সক্রিয়ভাবে এলাকায় কাজ শুরু করেন এবং নির্বাচনী এলাকায় তার শক্তিশালী উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
ডুমুরিয়া-ফুলতলা বিএনপির একাধিক নেতা মনে করেন, খুলনা-৫ আসনে বিএনপির ঐতিহ্যগত জনপ্রিয়তা থাকলেও গত কয়েকটি নির্বাচনে প্রার্থী সংকট ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল। এখন তৃণমূল কর্মীরা নির্বাচনী মাঠে প্রস্তুত, তবে সাবেক দুই প্রভাবশালী নেতার মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে জটিল সমীকরণ তৈরি করবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খুলনা-৫ আসনের বিজয়ী যে-ই হোন না কেন, তিনি নতুন এক রাজনৈতিক রেকর্ড গড়বেন। আর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের এই মুখোমুখি লড়াইয়ে সময়ের নিষ্ঠুর নিয়তির শিকার হতে পারেন যে কেউ। সবকিছু নির্ভর করছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষার ওপর।