
নড়াইলের কালিয়া উপজেলা বিএনপির একাংশ আওয়ামী লীগ সরকারের পতন (গণঅভ্যুত্থান) বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা সদরে এ কর্মসূচি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া মিঠু, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, জেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি এম রেজাউল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহিনুর ইসলাম মাহিন, সালামাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খান খলিলুর রহমান, বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দিল, পৌর কাউন্সিলর ইকরামুল হক ইকরাম, পৌর কাউন্সিলর জুয়েল সরদার, হায়দার আলম, যুবদল নেতা গোলাম মশরুর পল্টু, শ্রমিকদল নেতা মোল্যা বখতিয়ার হোসেনসহ নড়াগাতী থেকে অধ্যাপক বি এম নাগিব হোসেনের পক্ষ বহু নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন।
ছোটকালিয়া মোড় থেকে আনন্দ মিছিলটি শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থান দিবসের চেতনা হলো স্বৈরাচার ও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তারা দাবি করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার হয়েছে। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণঅভ্যুত্থান দিবস বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের বৃহত্তর জাগরণের প্রতীক হিসেবে পালন হয়ে আসছে। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদ সরকারের পতনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে। বিএনপির নেতারা এ ঐতিহাসিক ঘটনার ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনকেও গণঅভ্যুত্থানের বিজয় হিসেবে তুলে ধরছেন।
সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন, গত ক্ষমতাসীন দলের সময়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছে, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা হয়রানি ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। বর্তমানে কালিয়া পৌরসভার সেক্রেটারি ও ছয়জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের হয়েছে বলে অভিযোগ করে দ্রুত এসব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আদর্শকে সামনে রেখে কালিয়া উপজেলার রাজনীতি সুন্দর ও সুস্থভাবে পরিচালনা করতে হবে। তারা জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।