
আব্দুল্লাহ আল মামুন, হরিনাকুন্ডু (ঝিনাইদহ)
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। যদিও সরকারিভাবে নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে, তবে তা মূলত শহরকেন্দ্রিক থাকায় গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে গণভোট বিষয়ে এখনও পর্যাপ্ত ধারণা তৈরি হয়নি।
এ প্রেক্ষাপটে ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণসহ প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গণভোটের প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়। এতে করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ গণভোট সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তারা আগে থেকেই জানেন এবং নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। তবে গণভোট কী, এর উদ্দেশ্য কী—এ বিষয়ে গ্রামাঞ্চলে তেমন আলোচনা বা প্রচারণা ছিল না। তারা মনে করেন, যদি গণভোট নিয়ে গ্রামপর্যায়ে ধারাবাহিক প্রচার চালানো হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারবে।
গণভোট বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করা দিনমজুর ও বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার হরিনাকুন্ডু প্রতিনিধি। দিনমজুর মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “গণভোট আবার কী—আজই প্রথম শুনলাম। কেউ বুঝিয়ে বললে হয়তো বুঝতে পারব।”
মিল্টন বিশ্বাস বলেন, “শুনছি হ্যাঁ বা না ভোট হবে। কিন্তু বিষয়টা কী, সেটা বুঝি না। সবাই এমপি ভোটের কথাই বলছে। গ্রামে গণভোট নিয়ে তেমন কিছু জানে না মানুষ।”
স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “মেম্বার, চেয়ারম্যান আর এমপি নির্বাচনে ভোট দিয়েছি। কিন্তু গণভোট কী, তা পরিষ্কার না। গ্রামে এখনো তেমন প্রচার চোখে পড়েনি।”
এ বিষয়ে জেলা তথ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গ্রামীণ হাটবাজার ও প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হরিনাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. দিদারুল আলম বলেন, “গণভোটের বিষয়টি গ্রামাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আমি নিজে এবং উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এ কাজে সম্পৃক্ত রয়েছি।”
গণভোটের প্রচারণায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বিভিন্ন গ্রামীণ হাটবাজার ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অংশ নিচ্ছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ জাদী মাহবুবা মঞ্জুর মৌনাও।