
আল-হুদা মালী, শ্যামনগর প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের গাইনবাড়ি হাফিজিয়া মাদ্রাসার কয়েক ছাত্রকে অনৈতিকভাবে শারীরিক নির্যাতন এবং হুজুরকে জড়িয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত নয়ন, মিলন ও তাদের পিতা মাকছুর রহমানের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনসাধারণ শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত করেছে।
মানববন্ধনটি গাইনবাড়ি এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিয়ে মাদ্রাসার ছাত্রদের বেআইনি ও নির্মমভাবে প্রহার করেছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসার হুজুরকে বদনাম করার এবং তাকে জড়িয়ে চক্রান্ত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিশুদের ওপর এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে এবং নির্দোষ হুজুরের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা, অভিভাবক এবং স্থানীয়রা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধের ওপরও জোর দেন।
মানববন্ধনটি আয়োজনে নেতৃত্ব দেন গাইনবাড়ি হাফিজিয়া মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এছাড়া মাদ্রাসার সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, যদি দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হয়, তবে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হবে।
মানববন্ধনের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী শাখার আমির মাওলানা দিদারুল ইসলাম এবং নায়েবে আমির ও গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা ইসহাক আলী। তারা বলেন, গাইনবাড়ি হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ও হুজুরের বিরুদ্ধে যে বেআইনি আচরণ করা হয়েছে, তার সুষ্ঠু বিচার আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিত করা হবে। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন।