
নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বড়নাল ইলিয়াছাবাদ ইউনিয়নে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মল্লিক মনিরুল ইসলাম। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
ঘটনার শিকার সাংবাদিক বাবর আলী কালিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। রবিবার (২৯ জুন) রাতে তিনি এ জিডি করেন। এর আগে দুপুরে বিলদুড়িয়া গ্রামে নিম্নমানের ইট দিয়ে সোলিং রাস্তার কাজ চলছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি现场ে যান।
বাবর আলী খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জন্মভূমি ও দৈনিক ভয়েস অব টাইগার পত্রিকার কালিয়া উপজেলা প্রতিনিধি। তিনি অভিযোগ করেন, “রাস্তার কাজের ভিডিও ধারণ করছিলাম। এরপর ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে ফোনে কথা বললে চেয়ারম্যান আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।”
এই ফোনালাপের একটি অডিও ক্লিপ পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে ইউপি চেয়ারম্যানকে অশ্রাব্য ভাষায় সাংবাদিককে গালাগাল করতে শোনা যায়। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে সাংবাদিক দাবি করেন এবং বলেন, “তুই কে সাংবাদিক, আমিও সাংবাদিক। তোকে দেখে নেব।”
বাবর আলী বলেন, “এই ঘটনার পর আমি এবং আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মল্লিক মনিরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “যে রাস্তায় কাজ হচ্ছে সেটা আমার নিজের চলাচলের রাস্তা। প্রকল্পে এক লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও আমি নিজের ইট ভাটার ইট এনে অতিরিক্ত কাজ করছি। কিন্তু ওই সাংবাদিক এসে আমার সাব কন্ট্রাকটরের কাছে চাঁদা চেয়েছেন।”
তিনি দাবি করেন, ওই সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে ফেসবুকে ভিডিও ছেড়েছেন, তাই তিনি পাল্টা প্রতিবেদন তৈরি করছেন। তবে অডিও ক্লিপে গালিগালাজের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সাংবাদিক বাবর আলীর জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছেন। একাধিক অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তার বিরুদ্ধে নানা সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।