
শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দিতে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাবোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম বারুণী স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী মেলা আজ (২৭ মার্চ) শেষ হচ্ছে। বুধবার (২৬ মার্চ) রাত ১১:৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এ উৎসব আজ রাত ৯:৩০ মিনিটে পূণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
ভক্তদের ঢল ও মেলা আয়োজন:
স্নানোৎসবে যোগ দিতে দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার মতুয়া ভক্ত ও অনুসারী শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে সমবেত হয়েছেন। ঠাকুরবাড়ি ঘেঁষে বসেছে বিশাল বারুণী মেলা, যেখানে কাঠ, বাঁশ, বেত, মাটির তৈরি সামগ্রী, তালপাখা, মিষ্টি, চানাচুরসহ বিভিন্ন দোকান বসেছে।
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থেকে আসা ভক্ত বিপুল কুমার মিস্ত্রী বলেন, “আমি প্রতি বছর এখানে আসি, তবে করোনার কারণে কয়েক বছর আসতে পারিনি। এবার আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”
নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি:
ভক্তদের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। সিসি ক্যামেরা ও নজরদারি চৌকি বসানো হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে।
দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তায় কাজ করছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “স্নানোৎসব ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে।”
ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন:
শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ফাল্গুন মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে এ উৎসব প্রতি বছর পালিত হয়। এবার হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৪তম আবির্ভাবোৎসব উদযাপিত হচ্ছে, যেখানে ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মতুয়া ভক্তরা অংশ নিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য ঘটনা:
২০২১ সালের ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করেন, হরিমন্দিরে পূজা-অর্চনা করেন এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।