
মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার বুদ্ধিমন্ত সরকার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং মূল হত্যাকারীর গ্রেফতারের বিষয়ে সোমবার গোপালগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ড. মো. রুহুল আমিন সরকার সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ পরিদর্শক বিধান কুমার চন্দ্র।
সংবাদ সম্মেলনে ড. রুহুল আমিন জানান, বুদ্ধিমন্ত সরকার (৭০), যিনি পিতা মৃত কুটিশ্বর সরকারের তিন ভাইয়ের মধ্যে একজন, পারিবারিক জমির বন্টন নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধে জড়িয়ে ছিলেন। বিআরএস রেকর্ড অনুযায়ী জমির ২০ শতাংশ বেশি ছিল বুদ্ধিমন্ত সরকারের নামে। এছাড়া, বুদ্ধিমন্ত সরকার লিংকন সরকারের পিতা বিনয় সরকারের কাছে ২০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন।
জমি ফেরত এবং পাওনা টাকা চাওয়ায় বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং এর জের ধরে গত ২৯ মে রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে লিংকন সরকার বুদ্ধিমন্ত সরকারকে বাড়ির পাশে ধানের গোলাঘরে বাঁশ দিয়ে আঘাত করে ও গামছা দিয়ে মুখ চাপা দিয়ে হত্যা করেন। পরে মৃতদেহের দুই পা দা দিয়ে কেটে পাশের পাটক্ষেতে ফেলে, বাকি অংশ বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেন।
কোটালীপাড়া থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১ জুন সন্ধ্যায় লিংকন সরকারকে গ্রেফতার করে। হত্যাকারীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মৃতদেহের পা, দা, জুতা, পাঞ্জাবি ও গামছা উদ্ধার করা হয়।
ড. রুহুল আমিন আরও জানান, বুদ্ধিমন্ত সরকার একজন হিন্দু সাধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডকে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য ও দৈনিক জনকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি নিতীশ চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মোজাম্মেল হক