
মো. শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে ধর্ষণ মামলায় আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কিশোর রমজান (রাব্বি) মোল্লা, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী, বর্তমানে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরিত হয়েছে।
অভিযুক্ত কিশোরের বাবা রবিউল মোল্লা জানান, “গত আট মাস ধরে সাড়ে ৪ শতাংশ জমি নিয়ে প্রতিবেশী আনিছ মোল্লার সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। গত ৮ জুলাই মঙ্গলবার ওই জমির উপর দিয়ে ক্যাবল লাইন টানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরদিন বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও ঝগড়া হয়। এই ঘটনার জের ধরেই প্রতিপক্ষ আনিছ মোল্লা তার স্ত্রী তানিয়া বেগমকে দিয়ে সাজানো অভিযোগ করেন।”
তানিয়া বেগমের অভিযোগে বলা হয়, তার দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলপড়ুয়া শিশু কন্যাকে রমজান মোল্লা ধর্ষণচেষ্টা করেছে। ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই কিশোর রমজানকে নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে থানায় মামলা নেওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে পরদিন তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়।
তবে স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এমন কোনো ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো এবং জমিজমা নিয়ে পূর্ব বিরোধের ধারাবাহিকতা।
মামলার ২ নম্বর সাক্ষী বেলি বেগম বলেন, “আমি মামলার কিছুই জানি না। কেউ আমাকে কিছু জানায়নি, সাক্ষী হিসেবে নামও কে দিল, জানি না।”
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর দাবি, আনিছ মোল্লা ও রবিউল মোল্লার মধ্যে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পক্ষ-বিপক্ষের প্রভাব এবং পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুপারিশে মামলাটি গ্রহণ করা হয় বলে তারা ধারণা করছেন।
মামলার বাদী তানিয়া বেগমের ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেন তার স্বামী আনিছ মোল্লা। তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। যা ঘটেছে, এলাকার মানুষ জানে। আপনারা চাইলে থানায় গিয়ে বিস্তারিত জেনে নিন।”
এ বিষয়ে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত হবে, মিথ্যা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেই মামলা গ্রহণ করেছি।”
এ ঘটনায় শিশু অধিকার রক্ষা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।