
মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় চাঞ্চল্যকর ডাকাতি ও হত্যার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার ও শনিবার পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এসময় লুট হওয়া ২৪,১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— উপজেলার চৌরখালী গ্রামের আতা শেখের ছেলে সামিউল শেখ, তিলবাড়ী গ্রামের সোহরাব খানের ছেলে মোরশেদ আলম ওরফে কামাল এবং শওকত আলী ভূঁইয়া।
এর আগে, ৮ ও ১০ মার্চ ডাকাতি করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ১১ মার্চ দুপুরে কুশলা ইউনিয়নের লাখিরপাড় গ্রামের দন্তচিকিৎসক পল মজুমদারের বাড়িতে ডাকাত দল হামলা চালায়। লুটপাটের সময় তার ছেলে পিয়াস মজুমদার দেখে ফেললে, তাকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করে ডাকাতরা। ঘটনার পরদিন পল মজুমদার বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় হত্যা ও ডাকাতির মামলা করেন।
আজ শনিবার দুপুর ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, বাদী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বাড়িতে রেখেছিলেন, যা আসামিরা জানতে পেরে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন পাঁচজন একসঙ্গে বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি করে। পিয়াস মজুমদার দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়। ডাকাতরা মোট ১,০৯,০০০ টাকা ও একটি রুপার চেইন লুট করে।
১২ মার্চ সন্ধ্যায় কুশলা ইউনিয়নের খান মার্কেট এলাকা থেকে মোর্শেদ আলম ওরফে কামালকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার দায় স্বীকার করে এবং বাকি আসামিদের নাম প্রকাশ করে। এরপর বাগেরহাটের কচুয়া থেকে সামিউল শেখ ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা এলাকা থেকে শওকত আলী ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতারকৃতরা মাদকাসক্ত ও ঋণগ্রস্ত ছিলেন। তাদের মাদক কেনার ও ঋণের টাকা পরিশোধের জন্যই এই ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনায় জড়িত আরও দুইজনকে গ্রেফতারের অভিযান চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম, মো. ছরোয়ার হোসেন, সদর সার্কেল সালেহ আহমেদ, সদর থানার ওসি মীর মাজেদুর রহমান, কোটালীপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।