
মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি ফলের চাহিদাও বেড়ে যায়, বিশেষত ইফতারির আয়োজনের জন্য। তবে এবার গোপালগঞ্জে রোজার শুরুতেই ফলের দাম যে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা সচেতন ক্রেতাদের মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
২ মার্চ, রবিবার, গোপালগঞ্জের ফল বাজারে গিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে দেখা গেছে, ফলের দাম গত বছরের তুলনায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে গেছে। বাজারে প্রাপ্ত ফলগুলোর মধ্যে ডালিম ৩৫০-৪০০ টাকা, আঙুর ৩২০-৩৫০ টাকা, ড্রাগন ৫৫০ টাকা, কালো আঙুর ৪২০-৪৫০ টাকা, মাল্টা ২৮০-৩০০ টাকা, বেল ১৫০-২০০ টাকা, পেয়ারা ৬০-৮০ টাকা, কলা ২০-৫০ টাকা, তরমুজ ৩০০-৬০০ টাকা, আপেল ২৫০-৩৫০ টাকা, নাশপাতি ৩২০ টাকা, সফেদা ১৮০ টাকা, আনারস ৫০ টাকা, কমলা ২৮০ টাকা এবং চায়না কমলা ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের পক্ষে ফল কিনে ইফতার আয়োজন করা একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মোঃ শাহাবুদ্দিন সুজা নামের এক ক্রেতা বলেন, “বৃদ্ধ মা রোজা রাখেন, কিন্তু ফলের দাম এমনভাবে বেড়ে গেছে যে, পরিবারকে ফল কিনে খাওয়ানোর মতো টাকাও আমার কাছে নেই।”
এদিকে, বিক্রেতারা জানান, ফলের দাম বৃদ্ধি মূলত আড়ৎদারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তাদের হাতেই দাম কমানো বা বাড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে। মতি মোল্লা নামের এক বিক্রেতা বলেন, “আমরা ছোট ব্যবসায়ী, আমাদের কিছু করার নেই, আড়ৎদাররা দাম বাড়ায় এবং কমায়।”
বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোতে সাধারণত রমজানে নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা কমে, তবে বাংলাদেশে তা উল্টো দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। রমজান উপলক্ষে ফল ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন, যাতে বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং জনগণের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হয়।