
মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জনসাধারণকে ধৈর্য ধারণ এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
গত ১৬ জুলাই ২০২৫ তারিখে একটি রাজনৈতিক দলের ‘জুলাই পদযাত্রা’ কেন্দ্রিক জনসমাবেশে একদল উশৃঙ্খল জনতা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। এ ঘটনায় পুলিশের কয়েকজন সদস্য ও একজন সাংবাদিক আহত হন। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয় সরকারি স্থাপনা ও যানবাহন।
পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু একই দিন সমাবেশের মঞ্চ ও জেলা কারাগারে হামলা চালানো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হামলাকারীদের বারবার সতর্ক করা হলেও তারা উল্টো সেনাবাহিনীর ওপর ককটেল, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় আশ্রয়গ্রহণকারী ব্যক্তিদের খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে এই স্থানান্তর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে গোপালগঞ্জ জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রশাসনের জারি করা সময়ভিত্তিক কারফিউ বলবৎ রয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছে।
বিবৃতিতে সেনাবাহিনী বলেন, “গোপালগঞ্জবাসী ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে সহিংসতা থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে, এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। দেশবাসীকে অনুরোধ করছি, যেন গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখেন।”
সেনাবাহিনী আরও জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সর্বদা বদ্ধপরিকর এবং যেকোনো সংকট মোকাবেলায় জাতির সঙ্গে থাকবে।