
বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন আলিশাহ নগর বন্দরটিলা কাঁচাবাজার এলাকার অন্ধকার গলি থেকে কুখ্যাত ছিনতাইকারী ও অপহরণচক্রের সক্রিয় সদস্য ইমন রাব্বি (২৫), পিতা: জিয়াউল হক রাব্বি, কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকাজুড়ে সন্ত্রাস, ছিনতাই ও অপহরণ চালিয়ে জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল।
পুলিশ সূত্র জানায়, রাব্বির বিরুদ্ধে ডাকাতির ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে। দণ্ডবিধির ধারা ৩৯৯ অনুযায়ী ডাকাতির প্রস্তুতি এবং ধারা ৪০২ অনুযায়ী পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রিত হয়ে ডাকাতির ষড়যন্ত্র করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষায়, রাব্বি একক অপরাধী নয়, বরং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য।
অভিযানটি পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলামের সার্বিক নির্দেশনায়। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন) মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে নেতৃত্ব দেন ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জামির হোসেন জিয়া। সরাসরি মাঠে ছিলেন এসআই মো. আরিফ হোসেন ও এএসআই আব্দুল কাদেরসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল।
মঙ্গলবার গভীর রাতে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বি স্বীকার করেছে যে, সে একটি সংঘবদ্ধ অপহরণচক্রের সক্রিয় সদস্য। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে চক্রের আরেক সদস্য মো. জিসানকেও আটক করা হয়।
ইপিজেড থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “গ্রেফতারকৃত আসামিকে মামলা নং-০৫, তারিখ ২৩/০৯/২০২৫, ধারা ৩৯৯/৪০২ অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। রিমান্ডে নিলে পুরো চক্রের আসল রহস্য উন্মোচিত হবে এবং জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
দীর্ঘদিনের ত্রাস রাব্বির গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “এই গ্রেফতার পুরো চক্র ধ্বংসের পথ খুলে দিয়েছে। আমরা চাই, পুলিশ নিয়মিত এমন অভিযান চালিয়ে যাক।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযানে প্রমাণিত হয়েছে—কুখ্যাত অপরাধী যতই শক্তিশালী হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত আইনের কাছে পরাজিত হবেই। রাব্বির গ্রেফতার দেখিয়ে দিল, চট্টগ্রামে অপরাধীদের আর নিরাপদ আশ্রয় নেই।