
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম মহানগরের পতেঙ্গা এলাকায় রান্নাঘর সংস্কারকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহ থেকে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত ফেরদৌসি আক্তার (৩২) ছিলেন স্থানীয় একটি গার্মেন্টস কারখানার কর্মী। ১৩ জুলাই রাতে তার দেবর রনি ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান।
নিহতের ভাই মো. মামুন খান ১৪ জুলাই পতেঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: ১২, ধারা: ৩০২/৩৪)। ছয়দিন পর, ২০ জুলাই পুলিশ চড়িহালদা মোড় থেকে প্রধান অভিযুক্ত দেবর মো. রনি (২৮) ও তার সহযোগী সোলাইমান (৪৮)-কে গ্রেফতার করে।
পারিবারিক নির্যাতনের দীর্ঘ ইতিহাস
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফেরদৌসি ২০১৩ সালে মো. লোকমান হোসেনের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও দেবরের হাতে নিয়মিতভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। রান্নাঘর সংস্কারকে কেন্দ্র করে বিবাদের একপর্যায়ে ১৩ জুলাই রাত ১১টা ৩০ মিনিটে প্রতিবেশী আবু বক্করের ঘরের সামনে রনি তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
নির্দেশনায় জোরালো অভিযান
বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সোহেল পারভেজ ও সহকারী পুলিশ কমিশনার জামাল উদ্দিন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই এইচ এম হারুনুজ্জামান রোমেল অভিযান পরিচালনা করেন। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা তদন্তাধীন।
বার্তা সমাজের প্রতি
এ ঘটনাটি ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—ঘরের ভেতরের সহিংসতা কতটা ভয়াবহ হতে পারে। একটি রান্নাঘর নিয়ে কলহ গড়িয়ে গেল হত্যাকাণ্ডে। পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে হতে হবে আরও মানবিক, সচেতন ও জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে আইনি সহায়তা এবং মনস্তাত্ত্বিক সহযোগিতার সুযোগ বাড়ানো সময়ের দাবি।